কাল রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন। এতে বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ত্রিমুখী লড়াইয়ের কথা বলেছেন ভোট বিশ্লেষকরা। নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।
বদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাজন কর্মকর্তা দেলওয়ার হোসেন জানান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৪ জন মেয়র, ৩০ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১১ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে মেয়র পদে আওয়ামীলীগ মনোনিত আসাহানুল হক চৌধুরী টুটুল নৌকা, বিএনপি মনোনিত এ্যডভোকেট ফিরোজ শাহ ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলন মনোনিত সাদ্দাম হোসেন হাতপাখা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম নারিকেলগাছ প্রতিক নিয়ে লড়ছেন।
এবার এখানে ৯ টি ওয়ার্ডে এবারের ভোটর রয়েছেন ১৯ হাজার ৭৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা নয় হাজার ৭২২ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজার ৬০ জন। ভোট গ্রহন হবে ইভিএম পদ্ধতিতে।
ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কমিশন। র্যাব, পুলিশ আনসার সদস্যের পাশাপাশি ভোট নির্বিঘ্নে
রতে ভ্রাম্যমান আদালত ও জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কাজ করবে মাঠে।
এবার এখানে লড়াই হবে ত্রিমুখ। বিএনপি এবার এখানে প্রার্থী বদল করেছে। সাবেক এমপি পরিতোষ চক্রবর্তির বদলে বিএনপির প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ফিরোজ শাহ। তিনি বিএনপির আমলে হাইকোর্টের আইন কর্মকর্তাও ছিলেন। তিনি জানান, আমরা ভোটারদের কাছে ব্যপক সারা পাচ্ছি। কারণ দেশের জনগন আর এই আওয়ামী দু:শাসন দেখতে চায় না। তারা এ থেকে পরিত্রাণ চায়। জনগনকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে এবং আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা ভোট করছি। ভোট যদি আওয়ামীলীগ চুরি না করে তাহলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে এই নির্বাচনে এবার প্রার্থী বদল করেছে আওয়ামীলীগ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত ২২ বছর এখানে নির্বাচিত মেয়র ছিলেন আওয়ামীলীগের উত্তম কুমারসাহা। এবার আওয়ামীলীগ এখানে প্রার্থী দিয়েছে উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আহাসানুল হক চৌধুরী টুটুলকে। তিনি বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যানছিলেন। তিনি ইউপি চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করে এই নির্বাচনে লড়ছেন। তিনি জানান, বর্তমান হাসিনা সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্যই জনগন আওয়ামীলীগকে ভোট দিবে। আমরা যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই ব্যপক সাড়া পাচ্ছি। নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বদরগঞ্জ মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আজিজুল হক। তিনি গত দুই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, বদরগঞ্জ পৌরসভার মানুষ পরিবর্তন চায়। কারণ এখানে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ২১ বছর ক্ষমতায় থেকেও সামান্যতম উন্নয়ন করেন নি। উন্নয়নের জন্য পরিবর্তন দরকার। সেকারণেই তারা পরিবর্তনের জন্য উম্মুখ হয়ে আছে। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা প্রভাব বিস্তারের জন্য নানাধরণের কুট কৌশল করছে। প্রচারণায় শুরুতেই আচরণ বিধি লংঘন করছে। এবার যদি কোন কুট কৌশল করে জনগনের রায় ছিনিয়ে নেয়ার চেস্টা করা হয়, তবে জনগন তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিবে।
অন্যদিকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, জনগন আমাদের পাশে আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে হাতপাখার বিজয় এখানে হবে। তিনি বলেন, ন্যায়, নীতি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহীতা এবং উন্নয়নের জন্য আমরা নির্বাচনে লড়ছি। জনগন আমাদের এজেন্ডাকে গ্রহন করে সাড়া দিচ্ছে।
Leave a Reply