রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
রংপুরে স্কুল মাঠে স্থাপনা নির্মানের বিরোধিতা করায় সভাপতির হাতে বেধড়ক মারপিটের শিকার শিক্ষক

রংপুরে স্কুল মাঠে স্থাপনা নির্মানের বিরোধিতা করায় সভাপতির হাতে বেধড়ক মারপিটের শিকার শিক্ষক

ঘটনাটি রংপুরের কাউনিয়ার নাজিরদহ একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের! স্কুলের খেলার মাঠ দখল করে বিল্ডিং নির্মানের বিরোধিতা করেছিলেন শিক্ষক আলমগীর হোসেন। সেকারণে দুই দফায় তাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করেছেন স্কুলটির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন। এ বিষয়ে তদন্তে সত্যতাও পেয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি। কিন্তু প্রভাবশালী ওই আওয়ামীলীগ নেতা ওই সভাপতিকে ৩০ দিনেও গ্রেফতার কিংবা বরখাস্তও করা হয়নি। উল্টো তার হুমকি ধামকিতে ওই শিক্ষক এখন নিরাপত্বাহীনতায়। এমন পরিস্থিতিতে রোববার আন্দোলনে নেমেছেন উপজেলার শিক্ষকরা। তারা বাসস্ট্যান্ডে রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ করার সময় পুলিশ বাঁধা দেয়ারও চেস্টা করে।

রোববার দুপুরে শিক্ষক মারপিটকারী সভাপতি মোজাম্মেল হককে গ্রেফতার ও বরখাস্তের দাবি জানিয়ে দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা কাউনিয়া মোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা বাসস্টান্ডে রংপুর-কুড়িগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে বাধা দেয়ার চেস্টা করে পুলিশ। এসময় পুলিশের সাথে শিক্ষকদের বিতন্ডা হয়। পরে অবরোধ তুলে মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন। আন্দোলনে অংশ নেন উপজেলা মাধ্যমিক, নি¤œমাধ্যমিক এবং প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা।

এসময় সেখানে বক্তব্য রাখেন নাজিরদহ একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমজান আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিমসহ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। অবরোধ-মানবন্ধন শেষে মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে দাবি আদায়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। ইউএনও রংপুরে থাকায় তার পক্ষে সমাজসেবা অফিসার ছামিউল ইসলাম এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষে ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক স্মারকলিপি গ্রহন করেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দুইজন শিক্ষক বর্না করেছেন কিভাবে তারা লাঞ্চিত হয়েছেন ওই সভাপতি কাছে। লাঞ্ছিত নাজিরদহ একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান, স্কুলের মাঠ দখল করে সভাপতির একক সিদ্ধান্তে বিল্ডিং তোলার সিদ্ধান্ত হয়। আমি বিষয়টি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যানকে বলি এটা করা ঠিক হবে না। এতে খেলার মাঠ নস্ট হবে। শিক্ষার্থীরা খেলবে কোথায়। তাতে তাদের বিকাশ সাধিত হবে না। এব্যপারে আমি তাদের কাছে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাই। কে বা কারা আমার এই কথাটি সভাপতি মোজাম্মেল মেম্বারকে দেয়। ঘটনার দিন ৩০ নভেম্বর আমি এস্যাইনমেন্ট নিয়ে কাজ করছি। এমন সময় সভাপতি সাহেবে এসে আমাকে সবার সামনে লাথি এবং ধাপ্পর মাড়ে। বিষয়টি আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানাই। এরপর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ তারা সরেজমিন তদন্তে যান।তদন্তের সময়ই সভাপতি সাহেব আমাকে আবারও তাদের সামনেই চড় থাপ্পর মাড়ে। আজ পর্যন্ত এর কোন বিচার আমি পাচ্ছি না।

লাঞ্ছণার শিকার পল্লীমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদলি হওয়া প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক জানান, আমি ২৬ বছর ওই প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে ছিলাম। এই সময়ে উনি সেখানকার দুইবার সভাপতি ছিলেন। এসময় তিনি সরকারি কিংবা কোন অনুদান আসলেই সেটার অর্ধেক টাকা চাইতেন। না দেওয়ায় আমাকে মারপিটসহ গালাগালি করেছেন। একবার স্লিপের ২০ হাজার টাকা আসলো। তখন তিনি ১০ হাজার টাকা চাইলেন। আমি না দিতে চাওয়ায় বাজারে আমাকে লাঠি দিয়ে মারার জন্য তাড়া করেন। বিষয়গুলো আমি উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারকে জানালে ২০১৮ সালে আমাকে সেখান থেকে বদলি করেন দেন। ভুক্তভোগি এই শিক্ষক আরও বলেন, উনি আওয়ামীলীগ করেন।

সেজন্য সবসময় দলীয় ক্ষমতা দেখান এবং ত্রাস সৃস্টি করেছেন সেখানে। তিনি সবসময় তার কথা মতো সদস্য নিতে বাধ্য করে নিজেই সভাপতি হতেন। তার অন্যায়কাজে সারা না দিলে তিনি সবাইকে সব সময় মারপিট করেন। শিক্ষক হিসেবে তার কাছে মারপিট খেয়েছি কিন্তু বিচার পাই নি। বিষয়টগুলো আমি উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যানকেও জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোন সমাধান দিতে পারেন নি।

স্মারকলিপি গ্রহন করে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্কুলদুটির সভাপতি মোজাম্মেল হক স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক। সহকারি শিক্ষক আলমগীর মাঠে বিল্ডিং নির্মানের বিষয়ে আপত্তি তোলায় তাকে স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ্যে প্রথম মারপিট করে। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করতে গেলে আমাদের সামনে আবারও তাকে মারপিট করে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আমিও মনে করি যে শিক্ষককে মারপিট করে তার সভাপতি থাকার যোগ্যাতা নেই। বরখাস্তের সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনও’র কাছে আছে।

অন্যদিকে ইউএনওএর পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহনকারী উপজো সমাজসেবা অফিসার ছামিউল ইসলাম জানান, ইউএনও রংপুরে থাকার কারণে তার প্রতিনিধি হিসেবে আমি স্মারকলিপি গ্রহন করলাম। এটি তার কাছে পৌঝে দিবো। শিক্ষকদের মারপিট করার বিষয়টি অন্যায় ও ন্যাক্কারজনক।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উলফাত আরা বেগমের সাথে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায় নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com