মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
তাহিরপুরে নিকটাত্মীয়দের পিআইসি কমিটিতে নির্বাচিত করতে বিভিন্ন দলীয় নেতার দৌড়ঝাঁপ।

তাহিরপুরে নিকটাত্মীয়দের পিআইসি কমিটিতে নির্বাচিত করতে বিভিন্ন দলীয় নেতার দৌড়ঝাঁপ।

তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে নিকটাত্মীয়দের কমিটিতে নির্বাচিত করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিভিন্ন দলীয় নেতা-কর্মীগণ। উপজেলার বিভিন্ন অফিস ছাড়তে যেন রাজি নন নেতা-কর্মীগণ। বিভিন্ন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিকটাত্মীয় দের পিআইসি কমিটিতে বসাতে চাচ্ছেন নেতা গণ। তবে কৃষকরা চান আমাদের হাওরের কাজ আমরা করবো। কিভাবে আমাদের ফসল বাঁচাতে হবে তা আমরাই নির্ধারণ করবো।

কাবিটা নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অকাল বন্যার হাত থেকে হাওরের ফসল সুরক্ষায় সরকার ২০১৭ সালে সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা প্রণয়ন করে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে হাওরে বন্যায় ব্যাপক ফসলহানীর পর হাওরবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে সরকার কাবিটা নীতিমালা-২০১৭ প্রণয়ন করে। নীতিমালায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে সম্পূর্ণরূপে কৃষকদের সমন্বয়ে পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ করার নীতি প্রবর্তন করেন। এ নীতিমালায় আগের চেয়ে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ অনেক ভালো হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। তবে নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে এবং তাড়াহুড়োর কারণে কাজের মান বজায় রাখতে না পারলে হাওরের ফসল রক্ষা কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে যায়। যা কারো কাম্য নয়।

প্রতি বছরেই বিভিন্ন ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় দেখা যায় যে,হাওরে জমি নেই,প্রকৃত কৃষক নন তারাও হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)র সভাপতি, সহ-সভাপতি। এরকম সংবাদ যেন নতুন কিছুই নয়। তবে অনেকেই বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)তে।

তবে হাওরাঞ্চলের প্রকৃত কৃষকরা জানান, আমরা কৃষক। কৃষি আমাদের প্রধান উপজীবিকা। আমরা সারা বছর রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, শক্ত হাতে লাঙল ধরে এই মাটির বুকে সোনার ফসল ফলাই। আমরাই বাংলার প্রকৃত কৃষক। আমাদের ঘাম ও রক্ত দিয়ে এই দেশের সমৃদ্ধ হচ্ছে। আমরাই দেশের সব মানুষের খাদ্য উৎপাদন করায় সাহায্য করছি। নিঃস্বার্থ ভাবে দেশ ও দেশের জমির উন্নতিতে অবদান রেখে যাচ্ছি। দেশের শতকরা ৮০ ভাগ কৃষির সাথে সম্পৃক্ত। খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম সংসার চলে আমাদের। বছরে আমাদের তাহিরপুর উপজেলার ছোট-বড় ৮টি হাওরে একবার ফসল ফলানো হয়। এই এক ফসলের উপরেই নির্ভর করে আমাদের পরিবার। বন্যার হাত থেকে ফসল সুরক্ষায় সরকার ২০১৭ সালে সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা প্রণয়ন করেন। নীতিমালায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে সম্পূর্ণরূপে কৃষকদের সমন্বয়ে পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ করার নীতি প্রবর্তন করেন।কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় যে, কৃষকদের সমন্বয় ছাড়াই পিআইসির কমিটি গঠন করা হয়। তখন পিআইসির সভাপতি হন কৃষক নন ও হাওরে জমি নেই এমন ব্যক্তি। আবার বিভিন্ন দলের প্রভাব খাটিয়ে হচ্ছেন পিআইসি কমিটির সভাপতি। এদিকে বিভিন্ন দলীয় নেতারা পিআইসি কমিটিতে সভাপতি – সহ-সভাপতি দিবেন বলে শুরু করেন ব্যবসা-বাণিজ্য। এক পর্যায় দেখা যায় নেতারাই সফল। তবে এবছর আমাদের দাবী কৃষকদের সমন্বয় নিয়ে উপজেলার সবকটি হাওর ও মহালিয়া হাওরে প্রকৃত কৃষক কে হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) তে রাখা হউক।

অন্যান্য কৃষকের সময়ের দাবী,আমরা কোনো দল বুঝি না। বিএনপি, আওয়ামীলীগ বুঝি না, আমরা বুঝি আমরা কৃষক। আমাদের হাত দিয়ে ফসল ফলাই হাওরে। সেই কষ্টের মর্ম কি বুঝবে একজন নেতা। নেতারা কি কোনো দিন জমিতে হাল-চাষ করে দেখেছেন। তাহলে আপনারা কেন কৃষকদের নিয়ে রাজনীতি করেন। পিআইসি কমিটি গঠনের সময় আসলেই আপনাদের পাওয়া যায় বিভিন্ন অফিস-আদালতে । কেন আপনার এই দৌড় যাপ? প্রশ্ন করুন নিজের বিবেক কে। আপনার রাজনীতি করুন, ভালো কথা।আমরা আপনাদের বাঁধা দেবো না। আপনার দয়া করে পিআইসি কমিটি গঠনে দলীয় প্রভাব খাটানো বন্ধ করুন।আমরা চাই আমাদের ফসলের নিরাপত্তা। তাই প্রকৃত কৃষকের মাঝে পিআইসি কমিটির অনুমোদন দিন ও পিআইসি কমিটি দেওয়ার নামে বিভিন্ন দলীয় নেতাদের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হউক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com