পল্লী কবি জসিম উদ্দিন বই পড়া সর্ম্পকে বলেছেন, বই জ্ঞানের প্রতীক বই আনন্দের প্রতীক। সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছেন,বই কিনে কেউ দেওলিয়া হয়নি।দার্শনিক লিও টলস্টয় বলেছেন, জীবনে তিনটি বস্তুই বিশেষভাবে প্রয়োজন তা হচ্ছে বই, বই এবং বই।দার্শনিক টুপার বলেছেন,একটি ভালো বই হলো বর্তমান ও চিরকালের জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বন্ধু।আধুনিক সমাজতন্ত্রী চীনের জনক মাও সেতুং বলেছেন পড়, পড় এবং পড়।
সাদা পৃষ্ঠার কালো অক্ষরে চোখ বুলিয়ে আমরা কয়েক শত বছর আগের পৃথিবী ঘুড়ে আসতে পারি।বই আমাদের কল্পনার জগতে নিয়ে যায়। একটি ভালো বই আমাদের জীবনে প্রভাব বিস্তার করে। জানতে শেখায় নিজেকে পৃথিবীকে আর মহাবিশ্বের মহারহস্যকে।বই আমাদের গড়তে শেখায়, শিখতে শেখায়।বই বুদ্ধি, জ্ঞানের আধার, অমলিন আনন্দেরও উৎস।
ইন্টারনেট ফেসবুক ভার্চুয়াল জগতে হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার আনন্দ। শিশুরা কি পাচ্ছে এই ভার্চুয়াল জগতটায়!শিশুদের কি নিয়ন্ত্রণও করছে ভার্চুয়াল জগত।তারা কি ক্রমশ আসক্ত হয়ে ডুবে যাচ্ছে ভার্চুয়াল সাগরে!
শিশু ফাইজা,পাবনা শহরের ইঁটকাঠের খাচায় ছোট বেলকনিতে বসে ট্যাব হাতে নিয়ে খেলছে গেম,দেখছে ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও। দিনের বেশীরভাগ সময় শিশুটি ভার্চ্যুয়াল জগতে ডুবে থাকে। কিন্তু অভিভাবক তার সন্তান কিভাবে ইন্টারনেটে ব্যবহার করছে, কি দেখছে বিষয়গুলা নিয়ে উদাসীন।
শহরের ১৩ নং ওর্য়াডের সুইমাইয়া বয়স ৫ বছর হয়নি বেশীরভাগ সময় শিশুটি ফোন নিয়ে ভার্চুয়াল জগতের ডুবে থাকে।বিভিন্ন ভিডিও দেখে সময় কাঁটায়। কিন্তু অভিভাবক সবসময় তা খেয়াল রাখতে পারে না।
এরকম অসংখ্য শিশুদের কাছে বই পড়ার চেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভার্চুয়াল জগত।
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিশুরা ইন্টারনেটে কি দেখে সময় পার করছে!শিশুরা পড়বে মহামানবের জীবনী,ইন্টারনেটে যা শিখবে বা পড়বে যা তাঁদের সামনে আসবে সেটা গ্রহনযোগ্য না হয়ে ফেইক হতে পারে বা ভূয়া কল্পকাহিনি হতে পারে তাহলে শিশুরা কি শিখবে!
এ বিষয়ে কথা বলেছেন পাবনার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি জাকির হোসেন, তিনি বলেন, শিশুরা প্রাপ্ত বয়স্কদের মত বুদ্ধি বিবেচনা করতে পারেনা।তারা কি করছে ভার্চুয়াল জগতে সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।কি দেখছে কি শিখছে সেসব গ্রহণযোগ্য কিনা অভিভাবকদের তা খেয়াল রাখতে হবে।নিরাপদ ইন্টারনেটে শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ,ইতিহাস,ঐতিহ্য সর্ম্পকে শিশুদের জানতে হবে এক্ষেত্রে অভিভাবকের দায়িত্ব রয়েছে।
মনবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ বলছেন ভার্চুয়াল জগতে আছে ক্ষতিকর দিক।
শিশুরা পর্ণগ্রাফি তে ঝুঁকতে পারে।ইউনিসেফের এক রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিদিন ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি বা প্রতি আধা সেকেন্ডে একজন শিশু প্রথমবারের মতো অনলাইন জগতে প্রবেশ করছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে,সুফলের পাশাপাশি তাদের ঝুঁকি ও ক্ষতির মুখেও ফেলে ভার্চুয়াল জগত, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষতিকর আধেয় (কনটেন্ট), যৌন হয়রানি ও শোষণ, সাইবার উৎপীড়ন ও তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার।
চিকিৎসকরা বলছেন,কম্পিউটার, টিভি ও মোবাইল ট্যাব আসক্তিতে শিশুরা ভুগছে দৃষ্টিশক্তির সমস্যায়। স্ক্রিনের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকার কারণে শিশুরা চশমা ছাড়া দূরের জিনিস দেখতে পায় না বলে মনে করেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।
শিশুদের জন্য ক্ষতিকর ইন্টারনেট আসক্তি বিষয়ে কথা বলেছেন পাবনা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক ডাঃ রাম দুলাল ভৌমিক। ইন্টারনেটে অনেক ক্ষতিকর ভিডিও, গেম থাকে যা শিশুদের জন্য ভয়ংকর হতে পারে।ইন্টারনেটে অনেক অশ্লীল ছবি থাকে যা বিরূপ প্রভাব বিস্তার করতে পারে শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারায়।বেশি সময় ইন্টারনেট ব্যবহার শারীরিক মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হতে পারে শিশুদের বলছিলেন, ডাঃ রাম দুলাল ভৌমিক।
ভার্চুয়াল জগতে নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করে
শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস করাতে হবে। মহামানবদের শৈশব, স্বপ্ন ও তাদের কালজয়ী জানতে হবে।
শিশুদের পাঠের অভ্যাস গঠন, মেধা ও সৃজনশীলতার উম্মেষ এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বই পড়াটা তাদের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
পাবনায় বই বিক্রয় প্রতিষ্ঠান বই আড্ডা থেকে শিশুদের বই কেনার প্রবণতা কমেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রুমেল চৌধুরী এর অন্যতম কারন বলে তিনি মনে করেন শিশুদের মাঝে ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি। এই বই আড্ডায় রয়েছে সবধরনের বইয়ের বিশাল ভান্ডার।
পাবনা অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরীর মহাসচিব আব্দুল মতীন খান বলেন, শিশুকাল থেকেই শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।তবেই আগামী প্রজন্ম আলোকিত হবে।
Leave a Reply