দেশের ১২তম ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণে জিওবি’র অর্থায়নে এক হাজার ৫শত ৭৫ কোটি টাকার বৃহৎ একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্নের কথা রয়েছে। বৃহৎ প্রকল্পের অনুমোদনের সংবাদ শুনে ময়মনসিংহ মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়ে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্বতঃস্ফূর্তভাবে খন্ড খন্ড আনন্দ মিছিল বের হয় এবং মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) এই সভা হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক-এর সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় মোট তিন হাজার ৯০৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
মসিক মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু জানান, ময়মনসিংহের সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আন্তরিক। আগামী দিনে ময়মনসিংহের আরো উন্নয়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তার ইতিবাচ মনোভাবও ব্যক্ত করেছেন।
ময়মনসিংহ নগরীর উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে বৃহৎ এই প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়ায় মাদার অব হিউম্যানিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ৮ লক্ষাধিক নগরবাসীর পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (মসিক) প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু জানান, ২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর ৯০.১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তন নিয়ে দেশের ১২তম ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মসিক’র জনসংখ্যা ৮ লক্ষাধিক। সিটি কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠার পূর্বে বিলুপ্ত ময়মনসিংহ পৌরসভার আয়তন ছিল ২১.৭৩ বর্গ কিলোমিটার। নতুন সম্প্রসারিত ৬৮.৪৪ বর্গ কিলোমিটার নতুন এলাকায় উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া পড়েনি।
ফলে নাগরিক সেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়।
মসিক মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু আরো জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে সিটি কর্পোরেশন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী গঠনে অনেকটা সহায়ক হবে। সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে যানজট অনেকটা নিরসন হবে এবং উন্নততর যোগাযোগ গড়ে উঠবে। সড়ক নর্দমা উন্নয়ন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাকে দক্ষ ও কার্যকর করণ এবং মান নিয়ন্ত্রণসহ যান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী হবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র অনেকটা হ্রাসকরণ যাবে। প্রকল্প এলাকার জনগনের জীবণযাত্রার মানের উন্নয়ন ঘটবে।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম মিঞা জানান, প্রকল্পের অবকাঠামো অঙ্গভিত্তিক বিবরণ হচ্ছে: ২৯৬ কোটি ৪৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নগরীর ১৯৪.৭৪ কি.মি সড়ক কার্পেটিং, ৫০৮ কোটি ৬২লাখ ০৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নগরীর ২৭৩.৬৫ কি.মি আরসিসি সড়ক নির্মাণ, ৬ কোটি ২লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে নগরীর ৬.৪৩ কি.মি সিসি সড়ক নির্মাণ, ৫৩১ কোটি ৭৮লাখ ৬৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নগরীর ৩২১.৬১ কি.মি আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, ৩৪ কোটি ৪৪লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯.৭৫ কি.মি আরসিসি পাইপ ড্রেন নির্মাণ, ৩কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ২.৫০ কি.মি সড়কের ফুটপাত নির্মাণ, ৩৭ কোটি ৩১লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪.১৭ কি.মি পাইপ ড্রেনসহ ফুটপাত নির্মাণ, ২৮ কোটি ৬৪লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৭.৫৯ কি.মি. সড়কের রিটেইনিং ওয়াল/আরসিসি প্যালাসাইডিং নির্মাণ, ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১.১০ কি.মি সড়কের রোড ডিভাইডার নির্মাণ,
৪ কোটি ৭৫লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর ৩টি ব্রিজ নির্মাণ, ২ কোটি ৭০লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নগরীর ৬.৪৩ ১৩টি কালভার্ট নির্মাণ,
এবং ২১ কোটি ৬০লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কের উপর ৬টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ। এছাড়াও রাস্তা নির্মাণের সাথে সম্পৃক্ত ৩১ আইটেমের বিভিন্ন যান্ত্রপাতি ও মেশিনারিজ বাবদ ৬১ কোটি টাকা রয়েছে। এসব যন্ত্রপাতির মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন নির্মাণ কাজ করা যাবে। এছাড়াও যন্ত্রপাতি ভাড়া দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয় সম্ভব হবে।
Leave a Reply