যশোরে শহরে এক যুবককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে। তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুন করে মেহেদী হাসান সাগরের (২০) মৃতদেহ ঘোপ জেল রোডে পৌর কাউন্সিলর মোকছিমুল বারী অপুর বাড়ির পাশে ফেলে রাখা হয় বলে ধারণা করছেন স্বজনরা। সাগর (২০) সদর উপজেলার বিরামপুর পশ্চিমপাড়া ফকিরার মোড় মসজিদ এলাকার মুদি ব্যবসায়ী হানিফ শেখের ছেলে। নিহতের মা ও অন্য স্বজনদের অভিযোগ, মেয়েলি ঘটনা অথবা বিস্কুট খাওয়া নিয়ে গোলযোগের জেরে বন্ধু নয়নের নেতৃত্বে সাগরকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নয়ন পলাতক।
নিহতের মা সালেহা বেগম জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে সাগরের বন্ধু একই এলাকার সেলিমের ছেলে নয়ন তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তার ছেলে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে লোকমুখে জানতে পারে পৌর কাউন্সিলর মোকছিমুল অপুর বাড়ির পাশের গলি থেকে তার ছেলের লাশ উদ্ধার হয়েছে। পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে গিয়ে সাগরের লাশ দেখাতে পায়। সালেহা বেগম আরো জানান,
দুটি কারণে নয়ন তার ছেলে সাগরকে খুন করতে পারে। একটি মেয়েলি ঘটনা অপরটি হলো বিস্কুট খাওয়া নিয়ে গোলযোগ। সালেহা বেগম জানান, নয়নের সাথে একটি মেয়ের সম্পর্ক রয়েছে। কিছুদিন আগে তার ছেলে মোবাইল ফোনে মেয়েটির সাথে কথা বলেছিলো। এ খবর পেয়ে নয়ন এসে সাগরকে হুমকি দিয়েছিলো। কয়েক দিন পরে তারা দুইজন আবারো একসাথে চলাফেরা শুরু করে। সালেহা বেগম আরো জানান, সোমবার রাতে বিস্কুট খাওয়া নিয়ে নয়নের সাথে সাগরের তর্কবিতর্ক হয়। এসব ঘটনার জেরে নয়ন ঠান্ডা মাথায় সাগরকে ডেকে নিয়ে খুন করেছে। নিহতের পিতা শেখ হানিফ জানান,
সাগর রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতো। সোমবার রাতে সাগর বাড়ি না ফেরায় মঙ্গলবার সকালে নয়নকে তিনি মোবাইল ফোন করে তার ছেলের খোঁজ জানতে চান। প্রথমে নয়ন তাকে বলে যে, রাতেই তার ছেলে বাড়ি ফিরে গেছে। এরপর আবারও তাকে ফোন করা হলে সে তার ছেলের কোনো খোঁজ জানেনা বলে জানায়। শুধু তাই নয়, নয়নকে বারবার তিনি দেখা করতে বলেন। অথচ ‘এই আসছি’ এমন কথা একাধিকবার বললেও নয়ন তার সাথে দেখা করেনি। তিনি অভিযোগ করেন, নয়ন তার ছেলেকে হত্যা করেছে। এ ঘটনার সাথে আরো লোকজন জড়িত আছে। নয়নকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও হত্যার সবকিছু জানা যাবে।
উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাইফুল মালেক জানান, নিহতের বুকে ও পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। হত্যার কারণ ও ঘটনার সাথে শনাক্তে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তাসলিমা ইসলাম লিপা জানান, নয়ন মাদকসেবী। তার বন্ধুরাও মাদকসেবী। এসব কোনো ঝামেলা নিয়ে হয়ত হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।
যশোর কোতয়ালি থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানান, দুর্বৃত্তরা সাগরকে অন্য কোথাও হত্যার পর ঘোপের ওই গলিতে মৃতদেহ ফেলে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার মোটিভ উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ৯ টা ) থানায় মামলা হয়নি।
Leave a Reply