বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে কর্ম বিরতি কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয় হেলথ এসিস্ট্যান্টরা। আর এতে ব্যাহত হচ্ছে সম্প্রসারিত টিকাদান (ইপিআই) কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) সকাল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাহিরে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে লাগাতার কর্ম বিরতি পালন করছেন তারা। আর হেলথ এসিস্ট্যান্টদের দাবি আদায়ের এ আন্দোলনে স্থানীয় স্বাস্থ্য সেবা প্রত্যাশিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা জনসাধারণ তাদের কর্ম বিরতী দেখে ফিরে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, কমপ্লেক্সের সামনে ব্যানার সাটানো। তাতে বড় করে লেখা বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কর্ম বিরতি। ব্যানারের সামনে চেয়ার নিয়ে বসে কর্ম বিরতি কর্মসূচি পালন করছে হেলথ এসিস্ট্যান্টরা। তবে সেবা প্রত্যাশিদের সাময়িক অসুবিধার জন্য তারা স্থানীয় সেবা প্রত্যাশিদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফিক মিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফটকে দাঁড়িয়ে প্রতিবেদককে বলেন, নাতনিকে টিকা দেওয়ার জন্য এসেছিলাম। এসে দেখি হেলথ এসিস্ট্যান্টরা কর্ম বিরতি পালন করছে। হেলথ এসিস্ট্যান্টদের দাবি আদায়ের আন্দোলনের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানান ভূক্তভোগী আরও কয়েকজন সেবা প্রত্যাশি।
এসময় কর্মবিরতী কর্মসূচি পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যন্ট এসোসিয়েশনের নবীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি রকিব উদ্দিন খান রাকিবের সভাপতিত্বে সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফরহাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইনচার্জ পরিদর্শক মিরাজুল ইসলাম, ইলিয়াছ জাবেদ, শফিকুল ইসলাম, ফারজানা মুন্সী, লোকমান হোসেন সহ আরো অনেকে প্রতিবেদককে জানান,
তৃণমূলে স্বাস্থ্য সহকারীদের অর্জনেই বাংলাদেশ আজ টিকাদানে রোল মডেলে পরিনত হয়েছে। অথচ তারাই আজ বেতন বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে দাবি আদায় না হলে তাদের এ আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে বলেও জানান তারা।
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কাজে ফিরতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের কথা আমলে নিচ্ছেন না। আর তাদের জন্য সম্প্রসারিত টিকাদান (ইপিআই) কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে।
Leave a Reply