বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে শীত

ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে শীত

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় সারাদেশের মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রতি বছরই একটু আগেই শীত চলে আসছে। গত কয়েকদিন ধরে দিনে গরম থাকলেও সন্ধ্যার প্রকৃতিতে শুরু হচ্ছে শীতের হিমেল পরশের গা শিরশিরে বাতাস। রাতভর পরছে বৃষ্টির মতো কুয়াশা।

আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনে দেশের উত্তরের এই জেলায় দিনের পর দিন বেড়েই চলছে শীত। তার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলছে কুয়াশা। কুয়াশার আড়ালে ঢাকা পড়ছে সূর্য। দেখে যেন মনে হচ্ছে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে আছে এই ঠাকুরগাঁও।

মঙ্গলবার সকালে জেলা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এমনি চিত্রটি চোখে পড়ে। একদিকে যেমন বাড়ছে শীত অপরদিকে শীতে করোনা ভাইরাস নিয়ে চিন্তিত এই জেলার সাধারণ মানুষেরা।

সারেজমিনে জানা যায়, শীত ও কুয়াশার কারনে কাজ করতে অসুবিধা হওয়ায় অনেকটা বিপাকে পড়েছেন এই জেলার নিম্ন আয়ের মানুষরা। শীতে জড়ো-সড়ো হয়ে গেছে গবাদী পশুও। কেউ কেউ আবার খড়-কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে করছেন শীত নিবারণের চেষ্টা। রাস্তাঘাটে কুয়াশার ফলে সড়কে-মহাসড়কে বাস-ট্রাকগুলো চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। শীতের কাপড় পড়ে হাটাচলা করছেন প্রায় সকলেই।

সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বাসিন্দা আহম্মদ আলী জানান,গত কয়েকদিন ধরেই শীত একটু বেড়েই চলছে। সন্ধ্যার পর থেকে কুয়াশা পড়ছে,রাতভর করছে ঠান্ডা। ভোরেও অনেক কুয়াশা থাকছে। রাতে শীতের কাপড় নিয়েই ঘুমাতে হয় আমাদের।

শহরের বাসষ্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা জাহিদ হাসান জানান,প্রতিনিয়ত সকালে বের হতে হয় হাটাহাটি করার জন্য। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে যে কুয়াশা ছিলো তার থেকে বেশি আজ মনে হচ্ছে। এতে বুঝা যাচ্ছে শীত পড়েছে। ঠান্ডাও করছে অনেক। সন্ধ্যার পর শীতের কাপড় ছাড়া বের হওয়া যাচ্ছেনা।

শহরের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম রোহান বলেন,প্রতিনিয়ত আমাদের এখানে শীত অনেক বেশি পড়ে। শীতের কারনে তো অনেক মানুষেই অসুস্থ হয়ে থাকে। তার উপর এখন করোনা ভাইরাস। এই নিয়ে অনেক চিন্তিত আছি, না যানি কি হবে। তবে প্রশাসনের পাশাপাশি যদি আমরা সকলেই সচেতন হই তাহলে হয়তো আমরা অনেকটাই নিরাপদ থাকবো বলে আমি মনে করি।

জেলা স্কুল বড় মাঠে হাটতে এসেছেন পথচারী ফারুক হোসেন। তিনি বলেন,যখন করোনা ভাইরাস প্রথম আসলো তখন দেখেছি সকলেই মাক্স পড়ে বেড়াতো। কিন্তু আস্তে আস্তে এটা কেন যানি পরিবর্তণ হতে লাগলো। প্রশাসনের লোকেরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকায় মাক্স না পড়ায় জরিমানা করছে। কিন্তু এরপরেও অনেকইে শুনছেনা। তাই প্রশাসন কে আরো কঠোর হতে হবে বলে আমি মনে করি। তবে শুধু প্রশাসন নয় আমাদেরকে সচেতন হতে হবে পরিবারের কথা ভাবতে হবে।

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা.মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, করোনা ভাইরসের ২য় ঢেউ মোকাবিলায় আমাদের সকলকে সচেতন থাকতে হবে। মাক্স বাধ্যতামূলক হতে হবে। যেহেতু শীত পড়েছে সে ক্ষেত্রে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্য নিয়ে সকলকে সচেতন করা হচ্ছে। আমরা ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল সহ উপজেলার সকল হাসপাতালে শীতের জন্য অতিরিক্ত করে আরো ৫০টি বেড বৃদ্ধি সহ স্টাফদের যথাযথ প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান সিভিল সার্জন।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড.কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ২৫ হাজার কম্বল পেয়েছি। সেগুলো বিভিন্ন উপজেলায় পৌছে দিবার ব্যবস্থা করেছি। সেই সাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবারের মতো এবারো অসহায়দের শীত নিবারনের জন্য শীতবস্ত্র তৈরী করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন,জেলার দুর্যোগ ব্যবস্থা কমিটির সভায় শীত ও করোনা ভাইরাস দুইটি বিষয়ের উপর আলোচনা করা হয়েছে। শীতে যাতে করোনার বিস্তার না হয় সেজন্য আমরা বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহন করেছি। জেলার করোনা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে এজন্য আমরা প্রতিটি সময় জনগণকে সচেতন করছি। সেই সাথে সকলে যাতে মাক্স পড়ে সেই বিষয়টিতে আমরা বেশি জোড়দার দিয়েছি। ইতিমধ্যে আমাদের ম্যাজিষ্ট্রেটরা বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে এবং যারা এই মাক্স পড়ছেনা তাদের জরিমানাও করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com