চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়েছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আমির আহমদ শফীর মৃত্যুর ৫৯ দিন পর প্রথম কেন্দ্রীয় সম্মেলন এটি। রোববার (১৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় আল জামিয়াতুল আলিয়া দারুল উলুম মুইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় শুরু হয় সম্মেলন।
এর আগে সম্মেলনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে শুরু করেন কাওমি অনুসারীরা। এ সম্মেলনে সারাদেশ থেকে ৪০০ জন শীর্ষ নেতা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তারা আল্লামা শফীর উত্তরসূরি নির্ধারণ করবে।
আমির হওয়ার দৌড়ে রয়েছে জুনায়েদ বাবু নগরী ও নুর হোসাইন কাসেমীর নাম। তবে সম্মেলন ঘিরে হেফাজতের দুটি পক্ষ বিভক্ত হয়ে গেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতে ইসলামের আমিরের পদটি শূন্য হয়।জানা গেছে, হাটহাজারী মাদ্রাসা এবং হেফাজতের নেতৃত্ব নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই চলে আসছে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ। এরই জের ধরে মাদ্রাসা পরিচালনা থেকে সংগঠনের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জামায়াত-শিবিরের সমর্থন নিয়ে বাবুনগরীর অংশ হাটহাজারী মাদ্রাসায় আল্লামা শফীকে জিম্মি অবস্থায় রেখে তার ছেলে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসা পরিচালনা থেকে অপসারণে বাধ্য করলে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
এর মাঝে ১৮ সেপ্টেম্বর আল্লামা শফী মারা গেলে শুরু হয় শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে উভয় গ্রুপের তোড়জোড়। এবার নেতৃত্ব পুরোদমে আধিপত্য নিতে ১৫ নভেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় ডাকা হয় হেফাজতে ইসলামের বিশেষ সম্মেলন। আর এই সম্মেলনের বিরোধিতা করে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আল্লামা শফীর পরিবারের সদস্য এবং অনুসারীদের একাংশ। সংবাদ সম্মেলন থেকে আল্লামা শফীকে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি হাটহাজারী মাদ্রাসার সম্মেলন বন্ধের দাবি জানানো হয়।
নারীনীতির বিরোধিতা করে ২০১০ সালে জন্ম নেয় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এই সংগঠনটি। মূলত ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধিতা করে সংগঠনটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
Leave a Reply