বোয়ালমারী পৌরসদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আল্লাহ হক তাবলীগী জামে মসজিদ (ছাপড়া মসজিদ) এর নিয়ন্ত্রণ, কর্তৃত্ব, নামকরণ ও উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দু’টি পক্ষের মধ্যে ব্যাপক দ্বন্দ্ব কলহের সৃষ্টি হয়ে বলে অভিযোগে প্রকাশ।
মসজিদ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে মসজিদটি ৩.৭৫ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১.২৫ শতাংশ জমি দান করে সুরতি খাতুন ও ২.৫০ শতাংশ জমি দান করেন রহিমা খাতুন।
১৯৯৪ সালে আল্লাহ হক তাবলীগী জামে মসজিদের নামে উক্ত জমির দলিল সম্পাদন হয়। এ সময় ২৫ সদস্যের একটি মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এর সভাপতি ছিলেন নুরুজ্জামান খসরু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন মো. মোসাদ্দেক হোসেন (মুছা মেম্বার)। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, ২০১৫ সালে মসজিদের তৎকালীন মোতওয়াল্লী সৈয়দ আমিমুল এহসান (আমিম) একক ক্ষমতাবলে উক্ত কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে মসজিদে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির মধ্য দিয়ে মসজিদটির নতুন যাত্রা শুরু হয়।
মসজিদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন ওরফে মুছা মেম্বার এক লিখিত অভিযোগে বলেন, আল্লাহ হক তাবলীগী জামে মসজিদ হিসেবে মসজিদটির নামকরণ করা হলেও ২০০১ সালে ভূমি জরিপের সময় উক্ত মোতওয়াল্লী সৈয়দ আমিমুল এহসান (আমিম) কাউকে না জানিয়ে অবৈধভাবে দারুস সালাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ হিসেবে নতুন নামকরণ করেন।
এতে সাধারণ মুসল্লীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ২০১৫ সাল থেকে অদ্যাবধি মসজিদের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব দেন না তিনি। মোসাদ্দেক হোসেন জানান, কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার সময় আমরা মসজিদের তহবিলে নগদ ১০ লাখ টাকা রেখে আসি। এছাড়াও মসজিদের ৮টি দোকান ঘরের অগ্রীম জামানত বাবদ ২৫ লাখ টাকা আয় হয়। এসব টাকার কোনো হিসাব নেই। হিসাব চাইলে মোতওয়াল্লী নানা ধরনের টালবাহানা মূলক কথাবার্তা বলেন। এমনকি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। উল্লেখিত দোকান ঘরগুলো থেকে ভাড়া বাবদ মাসিক ১৭ হাজার ৫শত টাকা আয় হয়। এর মধ্য থেকে ইমামকে বেতন বাবদ ৭ হাজার টাকা দিয়ে বাকী টাকা মোতওয়াল্লী আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করেন মুছা মেম্বার। তিনি আরও জানান, মসজিদের একটি দোকান ঘরের ভাড়া মোতওয়াল্লী মসজিদ তহবিলে জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেন। মুছা মেম্বার বলেন, মুসল্লীদের ব্যাপক চাপ থাকা সত্বেও মোতওয়াল্লী সৈয়দ আমিমুল এহসান (আমিম) নিজের সুবিধার্র্থে নতুন কোনো কমিটি গঠন করছেন না। তিনি মসজিদের কর্তৃত্ব কুক্ষিগত করে রাখছেন। আমরা মসজিদের কোনো উন্নয়ন কাজ করতে গেলেও তিনি বাধার সৃষ্টি করেন। মসজিদের দ্বিতীয় তলা নির্মাণ কাজের জন্য আমি নির্মাণ সামগ্রী কিনে জমা রেখেছি অথচ মোতওয়াল্লী আমিমুল এহসান কাজ করতে বাধা দিচ্ছেন।
তার এরূপ কর্মকান্ডে সাধারণ মুসল্লীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানান সাবেক ওই সাধারণ সম্পাদক।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মোতওয়াল্লী সৈয়দ আমিমুল এহসান (আমিম) এর মুঠোফোন (০১৭১১-৩১৫৬২৪) নম্বরে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
Leave a Reply