যশোরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুন হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের ঘোপ বাবলাতলা মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহতের নাম মিরাজ হোসেন (২২)। সে সদর উপজেলার পাগলাদহ গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে।
নিহতের বোন রোজিনা জানিয়েছেন, তারা চার বোন, দুই ভাই। ছোট বোন ময়না ঘোপ বাবলাতলা মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকার সিরাজুল ইসলাসের বাড়িতে ভাড়া থাকে। ময়না ভাই বোনদের দাওয়াত দেয় তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য।
শুক্রবার ভাই বোনের মিলে সেখানে বেড়াতে যায়। নিহত মিরাজের দুই বউ। দুপুরে মিরাজ গোসলের জন্য বড় বউকে টিউবওয়েল চেপে দিতে বলে। বোন রোজিনা আরও জানান, এসময় আমরা বলি ছোট বউকে টিউবওয়েল চেপে দিতে বলো। ছোট বউ ঘোপ বাবালা তলার মাইক্রোস্ট্যান্ড এলাকায় থাকে। তাকে ডাক দিলেই তো হয়। এই নিয়ে কথাকাটাকাটি ও তর্ক বিকর্ত হয়। ছোট ভাই ইরান (২০) ও তার স্ত্রীও ওই কথাকাটাকাটির মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। এই নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি হয়। এক পর্যায়ে ইটের আঘাতে ইরানের স্ত্রীর পায়ে ক্ষত হয়।
বিকেলে ইরানের স্ত্রীকে সাথে তিনি (রোজিনা) ও মিরাজ ইজিবাইকে করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে থেকে সন্ধ্যায় ফের বোনের বাড়িতে ফিরে মিরাজ ও ইরান হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এসময় ইরান ক্ষুব্ধ হয়ে বড় ভাই মিরাজের বুকে ছুরিকাঘাত করে। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর মিরাজের মৃত্যু হয়।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অমিও দাস জানান, মিরাজকে গুরুতর অবস্থায় আনা হয়। তার বুিকের বাম পাশে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ভর্তি করে চিকিৎসার জন্য সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিরাজ মারা যায়।

ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক আরাফাত জানান, ফুসফুস ছিদ্র হয়ে যাওয়ার কারণে মিরাজের মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতন্দের পর সঠিক কারণ জানা যাবে। কোতয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, দুই ভায়ের মধ্যে মারামারিতে একজন মারা গেছে বলে জানতে পেরেছি। ঘাতক ছোট ভাইকে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।
Leave a Reply