পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (সর্বহারা) পরিচয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে টেলিফোনে ও এসএমএম করে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা না দিলে তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকিও দেয়া হয়।
গত দুইদিনে কথিত চরমপন্থীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহমেদ জিয়াউর রহমান, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়,
যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদ, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোসাম্মৎ লুৎফুন নাহার, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মাদ আলমগীরের কাছে বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করা হয়েছে।
যদিও ডিসি, এসপিসহ শীর্ষ কর্মকতাদের দাবি, কোনো একটি মহল যশোরের স্থিতিশীল পরিবেশ পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করতে চরমপন্থী সংগঠনের নাম ভাঙিয়েছে। কারোর কাছে মেজর জিয়া পরিচয় দিয়ে টাকা চাওয়া হয়েছে। পুলিশ এই সব বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া শুরু করেছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে আমার ফোনে ০১৭৪৫৫২৪৩৫১ নম্বর থেকে একটি মেসেজ আসে। ওই মেসেজে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং আরো আজেবাজে কথা লেখা হয়। চাঁদা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি হবে বলে হুমকিও দেয়া হয়েছে। পরে জানতে পেরেছি, এডিসি রফিকুল হাসান ও আহমেদ জিয়াউর রহমানের কাছেও ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার বিষয়টি পুলিশ সুপারকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, যশোর সদর, চৌগাছা ও কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে ফোন করে সংগঠনের সদস্যদের চিকিৎসা ও মামলার খরচ পরিচালনার জন্য চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘দুপুর একটা ৫০ মিনিটের দিকে আমার মোবাইল নম্বরে ০১৯০৭-৩৮৫১৬৭ নম্বর থেকে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। বলা হয়, তাদের অনেক কর্মী মামলার আসামি হয়েছে। মামলা পরিচালনার জন্য প্রচুর টাকার দরকার। তারা একটি বিকাশ নম্বর (০১৯১০-৪৭৬১০৩) দেয় টাকা পাঠানোর জন্য।
তিনি আরো জানিয়েছেন, কলদাতা নিজেকে মেজর জিয়া নামে পরিচয় দেয় এবং সর্বহারা পার্টির প্রধান হিসেবে বলে। বিষয়টি সাথে সাথে পুলিশ সুপারকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। জিডি লিখে থানায় পাঠানো হয়েছে।’
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন নাহার বলেন, ‘গত মঙ্গলবার বিকেলে মোবাইল ফোনে সর্বহারা পার্টির প্রধান পরিচয় দিয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তি ২৫ লাখ টাকা চাঁদা চায়। বলা হয় তাদের অনেক কর্মী অসুস্থ। সু চিকিৎসার জন্য ৩৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। এই বলে একটি বিকাশ নম্বর পাঠাচ্ছি বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনের কাছেও চাঁদা চেয়ে মোবাইল করা হয় বলে জানতে পেরে পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় তার সাথে দেখা করা যায়নি। মোবাইল ফোনেও চেষ্টা করা হয়েছিল।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার কাছেও চরমপন্থী সংগঠনের পরিচয় দিয়ে ফোন করা হয়েছিল। তিনি সে সময় একটি মিটিং এ ছিলেন। তিনি মুঠোফোনটি একজন সহকর্মীর হাতে দিয়ে ব্যস্ত আছি বলে জানাতে বলেন।
এ প্রসঙ্গে কোতয়ালি থানার ওমিস মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন,
শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে চাঁদা চেয়ে মোবাইল করা যশোরে এটা নতুন না। প্রায় পরিস্থিতি অস্বাভাবিক রাখতে সন্ত্রাসীরা চরমপন্থী সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা চায়। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply