অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হয়েছে। তিনি সাড়া দিচ্ছেন (রিফ্লেক্স রেসপন্স)। আওয়াজ শুনে প্রতিক্রিয়াও দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চোখও খুলেছেন তিনি। অভিনেতার এই অবস্থার পরিবর্তন যথেষ্ট ইতিবাচক বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আনন্দবাজারকে বেলভিউ নার্সিংহোমের তরফ থেকে চিকিৎসক অরিন্দম কর বলেন, ‘পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আগের চেয়ে সচেতনতা বেড়েছে সৌমিত্রের। ১০ থেকে ১১ এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতা (গ্লাসগো কোমা স্কেলের সূচকে)। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে চোখ খুলছেন। ১ লিটারের মতো মূত্রত্যাগ করেছেন তিনি। একদিন অন্তর অন্তর ডায়ালিসিস চলছে।’
সৌমিত্রের রক্তে ক্রিয়েটিনিন এবং ইউরিয়ার মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এই মুহূর্তে। চিকিৎসক আরও বলেন, ‘আশা করি খুব শীঘ্রই তার কিডনির কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। সে ক্ষেত্রে আর ডায়ালিসিস করার প্রয়োজন পড়বে না। সংক্রমণও আগের চেয়ে অনেকটা সেরে গিয়েছে। শরীরে জ্বর নেই। অ্যানিমিয়া স্থিতিশীল। আজ রক্ত দেওয়া হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
এক সপ্তাহ আগেও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের যে অবস্থা ছিল, তার চেয়ে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে ৮৫ বছর বয়সে দীর্ঘ এক মাস কোমর্বিডিটির সঙ্গে থেকেছেন। তার উপর আবার সইছেন ক্রিটিক্যাল কেয়ার সাপোর্টের ধকল। তাই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে। সঙ্কট অনেকটাই কাটিয়ে এসেছেন তিনি। তবে তার সচেতনতার মাত্রা বাড়ানোই এখন প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক অরিন্দম কর।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সৌমিত্রকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করে আনা যায় কি না, সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। প্লাজমা থেরাপি নিয়ে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নেফ্রোলজিস্টরা।
Leave a Reply