২২ দিন বন্ধ থাকার পর আজ থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় আবারো মাছ ধরা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মাছ ধরার সব প্রস্তুতি নিয়ে জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে নেমেছেন। গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর (বুধবার) দিনগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২২ দিন চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ও সারাদেশের ছয়টি অভয়াশ্রমসহ দেশের ৩৬টি জেলার নদ-নদীতে ইলিশসহ সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ,
মজুত ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এই সময়টাতে মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার নদী এলাকাকে মা ইলিশের প্রজননের জন্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। এ সময় মা ইলিশ মিঠা পানিতে ডিম ছাড়ে। তাই সরকার এই সময়ে নির্ধারিত নদী এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করে। নিষেধাজ্ঞার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নদীতে অভিযান চালিয়ে কয়েক হাজার কেজি ইলিশ ও কোটি কোটি মিটার জাল জব্দ করেছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় কয়েকশ’ জেলেকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে কয়েক লাখ টাকা।
ওই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছে নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদফতর। ৩৬টি জেলার ১৫২ উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে, ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নরসিংদী, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, চট্টগ্রাম, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর. চাঁদপুর, কক্সবাজার, খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা ও ঝালকাঠি।
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে উপজেলা টাস্কফোর্স সব সময় নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় জেলার চার উপজেলার নিবন্ধিত ৫০ হাজার জেলেকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।
Leave a Reply