সকল শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে নিজের জন্মদিন মানে একটি আনন্দঘণ মূহুর্ত। জন্মদিন মানে নিজের জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর সাথে নতুনকিছুর যোগসূত্র। নতুন দিনের আগমনের সাথে সাথে নিজেকে নতুন করে সমাজ ও দেশের তরে বিলিয়ে দেয়ার সূবর্ন সুযোগ। জীবন খাতায় অনেক হিসেব পড়ে থাকে। দিনবিয়োগের প্রতিটি মুহুর্ত হয়তো মনে পড়ে যায় এই দিনে। কি পেলাম আর কি হারালাম তার মনপাচালি না করে জীবন নতুন বছরের পদার্পনের সাথে সাথে দেশ ও সমাজের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার পরিধি বাড়িয়ে কাজ করার একান্ত প্রতিজ্ঞায় হওয়া উচিৎ জন্মদিনের মূল মন্ত্র।
তাই এই মন্ত্রকে নিজের চিত্তে ধারণ করে নিজের জন্মদিনে- জন্মদিনের আনন্দভাগ করেছেন পথশিশু, মাদ্রাসার এতিম শিশু ও ছিন্নমূল মানুষের সাথে।
যার কথা বলা হচ্ছিলো তিনি হলেন ঠাকুরগাঁও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নজমুল হুদা শাহ এ্যাপোলো। ২৮ অক্টোবর জন্মদিন পালিত হয়েছে তাঁর।
গত মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের নুরুল কুরআন হাফিজিয়া মাদরাসার শিশুদের সাথে সময় কাটান স্বেচ্ছাসেবকলীগের এই নেতা। শিশুদের সাথে জন্মদিনের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন তিনি।
এসময় জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি এ্যাপোলা মাদরাসার ছাত্রদের মাঝে জন্মদিন উপলক্ষে খাবার প্রদান করেন।
জানা যায়, জন্মদিনের মাহিন্দ্রক্ষণ যখনি পদার্পন করেছে ঠিক তখনি আনন্দ আবেশে ভরে উঠেছে মন। এ আনন্দ দায়িত্ববোধের, মানুষের পাশে দাড়ানোর, মানুষের সেবা করার অঙ্গীকারের। মানুষের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস থেকে জীবনের নতুন দিনটির মধ্যদিয়ে দিনটিকে স্মৃতিময় করে রাখতে মাঝরাতে শহর জুড়ে এসব মানুষদের মাঝে ছুঁটে বেড়িয়েছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নজমুল হুদা শাহ এ্যাপোলো। করেছন খাবার বিতরণও । এই মানুষগুলো হঠাৎ মাঝরাতে এমন আনন্দের অংশিদার হতে পেরে নিজেদের সুখী মানুষ হিসেবেও ভাবতে একটুও দ্বিধাবোধ করেননি।
তাঁদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ এই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে চিনতে ভুল করেননি। নিকোশ কালো আঁধারেও আবছা মুখের আকৃতি তারা ঠিক চিনতে পেরেছে। কারন এই নেতাই করোনার শুরু থেকে এসব মানুষদের পাশে থেকেছেন।
করোনায় থাবায় যখন বিধ্বস্ত লোকালয় তখন এই নেতায় দেবদূত হয়ে হাজির হয়েছিলেন এসব মানুষদের মাঝে। খাবার ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে সচেতনতায় এই মানুষটি ব্যপক ভূমিকা রেখেছিলেন।
খাবার বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সুনাম,সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মুজাহিদুর রহমান শুভ,সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াফু তপু,দপ্তর সম্পাদক আবু হাসনাত মশিউর রহমান রুমন,মাদরাসার পরিচালক মোতাহার হোসেন,মাদরাসার সভাপতি আকবর উদ্দিন সহ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃবৃন্দরা।
এ সময় কথা হয় শহরের দবির মিঞার সাথে, তিনি বলেন, রাইত হইচে তে কি হইচে বাপু, যে লোকখান হামাক চিনেনা জানেনা করোনার যখন হামরা খাবার পাইনি কুনঠে তখন এই এ্যাপোলো ভাই হামাক খাবার দিছিলো।
আইজ বাপুর জন্মদিন। হামরা সকলে দোয়া করি যেনো বাপুডাক অনেক হায়াত আল্লাহ দেয়। নিজের মনের কথাগুলো বলতে বলতে ছিলো এই মানুষটির মুখে প্রশান্তির ছাপ।
এক মাদ্রাসা শিশু বলেন, করোনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম। আমার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলাতেই। সে সময় দেখেছি এ্যাপোলো ভাই আমাদের এলাকাতে খাবার বিতরণ করেছেন। আজ তাঁর জন্মদিন আজকেও তিনি খাবার দিতে আমাদের মাঝে এসেছেন। তিনি আমাদের খুব ভালোবাসেন । আমাদের সব সময় খোঁজ খবর নেয়। তিনি আমাদের মহান অভিভাবক। আমরা সকলে তাকে জানাই শুভ জন্মদিন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নজমুল হুদা শাহ এ্যাপোলো বলেন, শিশুদের সাথে সময় কাটানোর মাঝে যে আনন্দটি রয়েছে তা বলে বুঝানোর মতো নয়। এই শিশুরা তো আমাদেরই সন্তানদের মতো । আজকের আমার এই জন্মদিনে আমি তাদের সাথে কাটাতে পেরে অনেকটাই আনন্দিত। আমি প্রতিবারেই চেষ্টা করি আমার জন্মদিনে সমাজের ছিন অসগায় ছিন্নমূল শিশুদের সাথে সেই দিনটি কাটানোর।
এদিকে রাত ১২টা ১ মিনিটে ঠাকুরগাঁও শহরের জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আয়োজনে জন্মদিনের কেক কাটা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এ্যাপোলোকে শুভেচ্ছা জানান।
Leave a Reply