ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিন জন শিক্ষক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে কর্মরত থাকার পরও তাদের পদ শূন্য দেখিয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে এমপিও ভূক্তির জন্য যাচাই বাছাই ও সুপারিশ করেছেন ত্রিশাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমান আনাম।তাহার প্রেরিত কাগজপত্রের কারণে নতুন তিন জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হন।অথচ এই তিন পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে কর্মরত আছেন মর্মে ত্রিশাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকায় ত্রিশালের ইউএনও এমপিও ভূক্ত তিন শিক্ষকের এমপিও স্থগিতের সুপারিশ করেছেন। এ গুরুতর অনিয়ম ও হাইকোর্টের আদেশ অমান্যের ঘটনা ঘটেছে বাগান ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায়।
অভিযোগে জানা যায়, বাগান ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসাটি ত্রিশাল উপজেলার এক সময়ের সেরা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ২০১৫ সালের ২৮ নভেম্বর শূন্য পদে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এবতেদায়ী জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে আশরাফুন নাহার রনি, সহকারী মৌলভী হিসেবে মোঃ আব্দুর রশিদ নিয়োগ পান এবং ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট সামাজিক বিজ্ঞান পদে মালা বেগম নিয়োগ প্রাপ্ত হন। নিয়োগের পর তাদের এমপিও ভূক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হলে রহস্য জনক ভাবে কাগজপত্র গায়েব হয়ে যায়। এরপর অধ্যক্ষ পরির্বতন হলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন নূরজাহান আক্তার। দায়িত্ব নিয়েই তিনি এই তিন শিক্ষককে মাদ্রাসার হাজিয়া খাতায় স্বাক্ষর করতে নিষেধ করেন এবং হাজিরা খাতা নিজের আয়ত্বে নেন। কিছুদিন পর এই তিন শিক্ষক তাদের স্বাক্ষর করতে না দেওয়া এবং এমপিও ভূক্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নূরজাহান আক্তার তিন শিক্ষককে মাদ্রারাসায় আসতে নিষেধ করেন। উপায় না দেখে ওই তিন শিক্ষক ত্রিশালের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং-৩২৭৮/১৯ তারিখ ২৫-০৩-২০১৯,৪১৬৬/১৯ তারিখ ২৯-০৪-২০১৯,৮৮৭৪/১৯ তারিখ ২১-০৮-২০১৯ মামলা করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তিন পদে এমপিও করণ স্থগিতের আদেশ প্রদান করেন। নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক এমপিও ভূক্ত না থাকার সুযোগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নূরজাহান আক্তার পদ শূন্য দেখিয়ে Ntcra আবেদন করলে ওই পদ গুলোতে Ntcra সহকারী শিক্ষক হিসেবে মোঃ মিজানুর রহমান, জুনিয়র শিক্ষক পদে মোঃ সুমন মিয়া ও সহকারী মৌলভী পদে হেলেনা খাতুনকে নিয়োগে দেয়। ওই তিন পদে এমপিও ভূক্তির জন্য নূরজাহান আক্তার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমান আনামকে মোটা অংকের উৎকোচে এমপিওর জন্য প্রস্তাব পাঠান। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে নিয়মিত কমিটি না থাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নূরজাহান আক্তার হাইকোর্টে মামলা ও স্থগিতাদেশের তথ্য গোপন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে থেকে এমপিও ভূক্তির জন্য স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান হাইকোর্টের মামলার বিষয়টি অবগত হন এবং গত ১৫ অক্টোবর/২০ ০৫.৪৫.৬১৯৪.০১৮.৫৫.০২৭.১৮-৬২৮ স্মরক মূলে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ওই তিন শিক্ষককের বেতন ভাতা স্থগিতের জন্য চিঠি দেন।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নূরজাহান আক্তার জানান এমপিও ভূক্তির কোন স্থগিতাদেশ নেই। উপজেল মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জিল্লুর রহমান আনাম বলেন, হাইকোর্টের স্থগিতের বিষয়টি আমি অবগত নই। হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। আমি এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।
Leave a Reply