শ্রীনগর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় চলছে মা ইলিশের রমরমা বাণিজ্য। মা ইলিশ রক্ষায় তেমন কোন ভূমিকা না থাকার বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার বসাক সাংবাদিকদের প্রশ্নের কাছে অসহায় অত্নসমর্পণ করেন। তিনি বলেন, আমার জনবল নেই। পুলিশ চাইলে পাই না। আমার একার পক্ষে মা ইলিশ নিধন সামলানো সম্ভব হয়ে উঠেনা। তার মতে মা ইলিশ রক্ষায় মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার।স্থানীয়রা জানায়, অন্যান্য বছর লৌহজংয়ের চরাঞ্চলে ইলিশ বেচাকেনা বেশী হত।
কিন্তু এবছর তাদের জোরালো অভিযানে অনেক জেলেকে জেল জরিমানা করা হয়েছে। এ কারণে এখন ইলিশ বেঁচাকেনার নিরাপদ স্থান হয়ে উঠেছে উপজেলার বাঘড়া বাজার থেকে দক্ষিনের চরে। ইলিশ বানিজ্যের সাথে জড়িত এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানে প্রতিদিন এক থেকে দেড়শ মন ইলিশ বিক্রি হয়। স্থানীয় একটি চক্র প্রতিকেজি ইলিশ ৩শ টাকা কেজি দরে কিনে তা থেকে ৪শ গজ দুরে বাঘড়া বাজার এলাকার আশে পাশে এনেই তারা ৬শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দেয়।স্থানীয়রা আরো জানায়, ইলিশ রক্ষায় সরকারের কঠোর পদক্ষেপ থাকলেও সরজমিনে এখানে আসলে মনে হবে ইলিশ বিক্রির এই অভয়ারণ্য হয়তো বাংলাদেশর বাইরে।
তারা আরো জানান, গত কয়েকদিনে এখানে কোন অভিযান হয়নি। বাঘড়া এলাকায় রাজনৈতিক ও স্থানীয় ভাবে গ্রুপিং থাকলেও এই বানিজ্যে সব গ্রুপ এক হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা আরো জানায়, বাঘড়া ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য এই কাজের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত থাকায় জেলেরা মা ইলিশ ধরতে এখানে সাহস দেখাচ্ছে। বাঘড়া এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় তারাও নিরব। ইউপি সদস্য, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সহ উপজেলা প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে মা ইলিশ রক্ষা নিয়ে সাধারণ জনগনের মনে নানা রকম প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে বাঘড়া এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও খেয়া ঘাটের আশপাশে অনেকেই মা ইলিশের ব্যাগ হাতে হেসে খেলে বাড়ি ফিরছেন। এই এলাকার শত শত নারী পুরুষ ব্যাগ,বস্তা হাতে নৌকা ও ট্রলারে করে দিন ভর চর থেকে মাছ নিয়ে ফিরে।বাঘড়া খেয়াঘাটের মাঝি বজলুর বলেন, আমার নৌকায় ইলিশ নিয়ে উঠলে আমি কি করব? তিনি সহ উপস্থিত বেশ কয়েকজন জানান, চর থেকে এখান দিয়ে মা ইলিশ বাঘড়ায় কারা আনে তা কে না জানে? আপনি মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানে না? তারা এই এলাকার লোকজনের মাধ্যমেই বাণিজ্য করে।
কয়েকদিন আগে এক জেলে ধরা পরেছিল সে রাতের মধ্যেই তার স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে টাকা দিয়ে রক্ষা পেয়েছে।বাঘড়া ছাড়াও উপজেলার ভাগ্যকূল, মান্দ্রা ও কবুতর খোলা এলাকায় ইলিশ বেচাঁকেনা হচ্ছে নির্বিঘ্নে।এব্যাপারে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, মা ইলিশ নিধনকারী ও সহযোগিতাকারী কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা। এর সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
Leave a Reply