চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় কোরআন শিক্ষাগ্রহণ করতে গিয়ে এবার এক মাদ্রাসা শিক্ষকের কাঁছে ধর্ষিত হল স্কুল পড়ূয়া এক শিশু শিক্ষার্থী। নির্মম ও ঘৃন্য এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের সিন্ধি পাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদ সংলগ্ন স্থানীয় ফোরকানীয়া মাদরাসায়। ধর্ষক শিক্ষক মোজাম্মেল হক চাম্বল ইউনিয়নের সিন্ধি পাড়ায় চাম্বল ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় সকাল বেলা শিশু-কিশোরদের আরবী পড়াতেন।
বিলম্বে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ধর্ষিতা ছাত্রীটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সকালে মাদ্রাসায় কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের হাতে ধর্ষণের শিকার হলে ১৯ নভেম্বর, সোমবার ছাত্রীটির মা হোসনে আরা বাদী হয়ে ধর্ষনে অভিযুক্ত শিক্ষক মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্ধি পাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর এক ছাত্রী (১০) ভোরে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য নিয়মিত পার্শ্ববর্তি চাম্বল সিন্ধি পাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় মাদ্রাসায় যায়।
১০ অক্টোবর কোরআন শিক্ষা শেষে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিলেও এ শিক্ষার্থীকে রেখে দেয় শিক্ষক মোজাম্মেল হক। পরে তাকে ধর্ষণ করে ঐ শিক্ষক। পরে জানা যায়, কুলাঙ্গার ঐ শিক্ষক কোমলমতি ঐ ছাত্রীটিকে বিভিন্ন প্রলোভন ও হুমকি-ধমকি দিয়ে আগেও বেশ ক’বার ধর্ষন করেছে। ৪র্থ বার ধর্ষন করার পর মেয়েটি তার পরিবারের কাঁছে ঘটনা খুলে বলা পর ঘটনাটি জনসমক্ষে জানাজানি হয়। শেষবার ১৯ নভেম্বর মেয়েটি চতুর্থবারের মত ধর্ষনের শিকার হওয়ার পর ঘটনাটি শিক্ষক মোজাম্মেল হক ছাত্রীটিকে কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দিলেও ছাত্রীটির বাড়িতে চলাফেরায় কষ্ট হচ্ছে দেখে তার মাকে ঘটনাটি খুলে বলে।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষকটি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। মামলাসূত্রে জানা যায়, ধর্ষণকারী মোজাম্মেল হক চাম্বল সিন্ধি পাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার আবদুল মজিদের ছেলে।
এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রেজাউল করিম মজুমদার প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাঁশখালীর চাম্বল এলাকায় এক শিশু শিক্ষার্থীর ধর্ষণের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।
আসামীকে গ্রেপ্তারের জন্য থানা পুলিশের টিম বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছে। দ্রূত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষক মোজাম্মেলকে গ্রেফতার সম্ভব হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ওসি রেজাউল করিম মজুমদার।
এদিকে শিশু শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা শিক্ষক ধর্ষন করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরই উপজেলার সর্বত্র তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
Leave a Reply