মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টিকিটের মূল্য বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি ভাবে টিকিটের মূল্য তিন টাকা নির্ধারিত থাকলেও নেয়া হয় পাঁচ টাকা করে। তবে, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা খুচরা দিতে না পারার কারণে পাঁচ টাকা নেয়া হলেও পরে এসে দুই টাকা ফেরত নিয়ে যেতে বলা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা থাকে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ রোগী বহির্বিভাগে টিকিট নিয়ে থাকেন। সরকারি ভাবে টিকিটের নির্ধারিত মূল্য তিন টাকা।
সরজমিনে দেখা যায়, বহির্বিভাগের টিকেট কাউন্টারে টিকিট নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘ লাইন। তাদের টিকিট দিচ্ছেন অফিস সহায়ক শিমুল মিয়া। তাকে সহযোগিতা করছেন অ্যাম্বুলেন্স চালক মো: ফারুক।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্তত ১২ জন রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, টিকিটের মূল্য হিসেবে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ টাকা করে নেয়া হয়েছে। কাউকেই পরবর্তীতে এসে দুই টাকা ফেরত নেওয়ার কথা বলা হয়নি। তারা জানেন না টিকিটের সরকারি নির্ধারিত মূল্য তিন টাকা। তারা জানান, টিকিটের মূল্য নিয়মিতই পাঁচ টাকা করে নেয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা অফিস সহায়ক শিমুল মিয়া বলেন, খুচরা না থাকলে পাঁচ টাকা নেয়া হয়। তাদেরকে বলে দেয়া হয় পরবর্তীতে এসে দুই টাকা নিয়ে যেতে।
হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান বলেন, তিন টাকা যারা খুচরা দিতে পারেন না তারা পাঁচ টাকা দেন বা তাদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা নেয়া হয়। তাদেরকে পরে এসে দুই টাকা ফেরত নিয়ে যাওয়ার কথা বলে দেয়া হয়। কেউ নিতে আসলে নিলো, কেউ না নিতে আসলে তো আর কিছু করার নেই।
মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দ মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আইন মোতাবেক টিকিটের অধিক মূল্য নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি বেশি নিয়ে থাকে, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply