সাংবাদিকরা প্রতিটি জাতির বিবেক, যেখানে অন্যায়,অত্যাচার,নির্যাতন,নিপীড়ন,দূর্নীতি,সন্ত্রাসী কার্যক্রম,সেখানেই সাংবাদিকের কলম বিজলীর গতিতে ঘটনাটি জন সম্মুখে উঠে আসে। কিন্তু যে সাংবাদিকরা জাতি গঠনে বিশেষ ভূমিকা রেখেচলছে। আজও তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিটি দিনই সারা দেশে কোন না কোন ভাবে সাংবাদিক নির্যাতিত হচ্ছে। আর বাংলাদেশে সাংবাদিকতার মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
একটু প্রতিবাদী হাতে কলম চালালে ব্যক্তি জীবনে নেমে আসে মৃত্যুর পরোয়ানা। আর গত এক যুগে যারা প্রতিবাদী হয়ে শাসক শ্রেণীর মূখোশ খোলে দিতে কলম হাতে নিয়েছেন।
তাদের মধ্যে অনেকেই নিহত হয়েছেন সস্ত্রাসীদের হাতে। এক যুগে অনেকেই সন্ত্রাসীর হাতে নিজ নিজ কর্মস্থলে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন,তেমনি -মানিকছড়ি প্রতিনিধি, দৈনিক আজকের কাগজ এবং ইউএনবি প্রতিনিধি কামালকে।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাতের গভীরে মানিকছড়ির উদীয়মান সাংবাদিক ও তরুণ ছাত্রনেতা মোঃ কামাল হোসেন দুর্বৃত্তের নির্মমতায় হত্যাকান্ডের শিকার হয়। একমাত্র শিশুপুত্র,স্ত্রী, মা ও ভাই- বোনের মনে এখনো ভয়ে বেড়াচ্ছে শোকের মাতম।
সহকর্মী ও রাজনীতিবিদরা তাকে ভুলে গেছে। কিন্তু নিহতের পরিবারে চলছে বেদনার অশ্রু। জানা গেছে, মানিকছড়ি উপজেলার তৎকালীন ছাত্রনেতা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আজকের কাগজ, মানিকছড়ি প্রতিনিধি মোঃ কামাল হোসেন ২০০৪ সালের ২০ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে (২১ আগস্ট) উপজেলার তিনটহরীর নির্জন গ্রামে নিজ বাড়ী থেকে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাকে তুলে নিয়ে বাড়ীর অদূরে কচুখেতে নিমর্মভাবে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
এই ঘটনায় পরদিন পুরোদেশে সাংবাদিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠে। পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত হত্যাকান্ডে দুর্বৃত্তদের সম্পৃক্ততা ফেলেও স্বাক্ষীর অভাবে আটক সন্ত্রাসীরা একপর্যায়ে মামলা থেকে প্রথমে জামিন ও পরে ধীরে ধীরে অবমুক্ত হয়।
কিন্তু সন্তান,স্বামী ও পিতা এবং ভাই হারানোর বেদনায় এখনো অঝোরে কাঁদছে পরিবারটি। নিহতের একমাত্র পুত্র ও স্ত্রীকে ছোট ভাই মোঃ জহির হোসেন এর সংসারে তুলে দিয়ে সন্তানের পিতার শোক এবং স্ত্রীর স্বামীর বেদনা কিছুটা নিরাময়ের চেষ্টা করেছিল পরিবারবর্গরা।
পরে জেলা বিএনপি নেতা ওয়াদুদ ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপে নিহতের স্ত্রীকে হাসপালাতে একটি চাকুরীর ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া দীর্ঘ ১৬ বছরে নিহতের পরিবারে আর কোন খবরা- খবর নিতে কেউই এগিয়ে আসেনি।
আজ নিহতের ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নিকটতম আত্মীয়- স্বজনরা পারিবারিকভাবে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করেছে।
Leave a Reply