ডেস্ক রিপোর্ট:
প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেতা আশরাফুল হক ডন। তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ আবেদনের শুনানি হবে আগামী ২৭ আগস্ট।
গত ৯ আগস্ট ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে ডনকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এবার মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশায় তাকে নিজেদের হেফাজতে নিতে আদালতে আবেদন করেছে সিআইডি।
তদন্ত সংস্থার আবেদনে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সিআইডির ধারণা, তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।
এ ছাড়া ডনের বিদেশে যাওয়ার চেষ্টার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে এবং কার সহায়তায় দেশের বাইরে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা জানতে চায় সিআইডি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আদালতে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাটি।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। শুরুতে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্তের পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে আদালতের নির্দেশে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে সামনে আসে। এরপর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সামিরা হক, আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডনসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
সালমান শাহের মৃত্যু নিয়ে এর আগেও একাধিক তদন্ত হয়েছে। অতীতের তদন্তের ফলাফল ও মৃত্যুর কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভিন্নমত ও বিতর্ক রয়েছে। নতুন হত্যা মামলার তদন্তে সিআইডি কী তথ্য সামনে আনে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
আগামী ২৭ আগস্ট ডনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে। সেদিন আদালত তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন কি না, সেটিই এখন সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্তের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
Leave a Reply