মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
টাংগাইল থেকে হারিয়ে যাবার পথে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস

টাংগাইল থেকে হারিয়ে যাবার পথে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস

শামসুর রহমান তালুকদার –

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য খেজুর গাছের রস আজ হারাবার পথে। হারিয়ে গেছে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ খেজুর গাছ কিবা বাড়ির আঙ্গিনা, জমির আইলে রোপন করা খেজুর গাছের সারি। হারিয়ে গেছে গাছি আর সাত সকালে মাটির উঁনুনে জ্বল দেওয়া মিষ্টি রসের ভান্ডার।

তবে কাঁচা রসের চাহিদা থাকলেও তা দুস্প্রাপ্য। টাকা হলেই মিলছে না খেজুর রস। এক সময় গ্রাম-গঞ্জের ঐতিহ্য ছিল খেজুরের রস। কালের বিবর্তনে তা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না। অথচ কিছুকাল আগেও মানুষের বাড়িতে, সড়কের পাশে সারি সারি খেজুর গাছ দেখা যেত।

শীতকাল আসতেই গাছ কেটে হাঁড়ি বসিয়ে ভোরে রস বিক্রি হতো। এখন গাছ নেই বললেই চলে। যা আছে, সেগুলো থেকে আগের মতো রস পড়ে না। আগে পরিবেশ ভালো ছিল, প্রতিটি ফল মূলের গাছ ছিল ফুলে ফলে ভরা। এলাকার পরিবেশ দূষণের ফলে, ফলমূলের গাছে আগের মতো ফল ধরে না। আগে সকালে হাঁড়ি নামিয়ে রস নিয়ে যাওয়ার পরও গাছ থেকে ফোঁটা ফোঁটা রস ঝড়তে থাকত দুপুর পর্যন্ত। এখন রস ঝড়বে তো দূরের কথা সারা রাতে মাঝারি সাইজের কলসই ভরে না। শীত মৌসুমের আগমন হতে না হতেই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য খেজুর গাছের রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পরেন গাছিরা। অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছের এখন অনেক কদর। শীত জেঁকে বসায় খেজুর রস সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। তবে গাছ সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না রস। চারিদিকে ঘন কুয়াশা। এরই মধ্যে লোকজনের কোলাহল। রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ খেজুর গাছ।

আশপাশের এলাকা ও শহর থেকে খেজুরের রস খেতে এসেছে লোকজন। কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ বাইসাইকেলে, কেউ ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সায় আবার কেউ পায়ে হেঁটে খেজুরের রস খেতে এসেছেন। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারাবাড়ি ও পাইক মুড়িল এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ত। এসব এখন অতীত। গত কয়েক বছর আগেও বাড়ির আঙ্গিনা, জমির আইল ও রাস্তার দুই পাশে দেখা যেতো অসংখ্য খেজুর গাছ। তবে এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না।

গাছিরা জানান, রস সংগ্রহে শীতের আগমনের শুরু থেকেই প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন গাছিরা। অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছের এখন অনেক কদর। শীত জেঁকে বসায় খেজুর রস সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। তবে গাছ সংকটের কারণে এ বছর চাহিদা অনুযায়ী রস পাওয়া যাবে না, বলছেন তারা।

গাছি নুরুল ইসলাম বলেন, বছরে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত রস সংগ্রহ করা যায়। প্রতি কেজি রস ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বিক্রি করি। প্রতিদিন অনেক দূর দুরান্ত থেকে লোকজন রস খেতে আসেন। রস সংগ্রহ করতে অনেক পরিশ্রমও করতে হয়। কয়েকদিন পর পর গাছ কাটতে হয় আবার শুকাতে হয়।তিনি বললেন, রসের চাহিদা খুব বেশি। অনেকেই শীতের মধ্যে কষ্ট করে এসেও রস না পেয়ে চলে যান।

চারাবাড়ি এলাকার গাছি আশরাফ আলী বলেন, আমার এখানে রাস্তার পাশে ৩৯টি খেজুর গাছ আছে। তার মধ্যে ২ গাছ থেকে রস বের হয় না। ৩৭টি গাছের প্রতিটি গাছে ৫ থেকে ৬ কেজির মতো রস বের হয়। অনেকেই মোবাইলে আগে থেকে রসের অর্ডার দিয়ে রাখেন, আবার অনেকেই রস না পেয়ে রস সংগ্রহের জন্য বোতল রেখে যায়। পরের দিন এসে রস নিয়ে যায়। রাত জেগে রস পাহারা দিতে হয়। পাহারা না দিলে এলাকার যুবকরা এসে হাড়িসহ রস নিয়ে যায়। কুয়াশা যেদিন বেশি পড়ে সেদিন রসও বেশি বের হয়।

টাঙ্গাইল পুরাতন বাস ষ্ট্যান্ডে কথা হয় রস বিক্রি করতে আসা পার্শ্ববর্তী এলাকার নাসির উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি ২৫ বছর যাবত খেজুরের রস বিক্রি করে সংসার চালাই। এলাকার গাছিদের নিকট থেকে রস কিনে এনে আশপাশের এলাকাগুলোতে বিক্রি করি। এক সময় গ্রাম এলাকায় অনেক খেজুরের গাছ ছিল। এখন তেমন একটা দেখা যায় না। তবে, এ রসের চাহিদা অনেক। রস পেলেই সবাই আগ্রহ নিয়ে খেতে চায় এবং বাড়ির জন্য কিনে নিয়ে যায়।’

রস খেতে আসা মঞ্জু মিয়া বলেন, রস খেতে খুব ভোরে ৮ কিলোমিটার দূরের এনায়েতপুর এলাকা থেকে এসেছি। তারপরও রস পাইনি। অন্য একজনে রস কিনে বাড়ির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। তার কাছ থেকে এক গ্লাস খেয়েছি।

জানা যায়, জেলায় উৎপাদিত খেজুরের গুড়ের ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকায় গাছের সংখ্যা বাড়াতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বুলেটিনের কথা হয় টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মো. আশেক পারভেজের সাথে। তিনি বলেন, ‘প্রচুর পরিমাণে খেজুরের চারা রোপণ কর্মসূচি আমরা প্রতিবছর পালন করে থাকি। যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম খেজুরের রস এবং খেজুরের গুড় সবাই এটা পায় এবং এটা থেকে বঞ্চিত না হয়।’

কৃষি বিভাগ ও উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় খেজুরের রস ও গুড় টাঙ্গাইলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে- এমনটি প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com