মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ডিআইজি পদে পুলিশের ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি
ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন

ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন

আজ ৭ জুন ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু’র নেতৃত্বে আজ ৭ জুন ২০২১ ইং সকাল ১০ টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এসময় সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন বঙ্গবন্ধু’র কাছে ছয় দফা ছিল একটা সাঁকো, যাতে চেপে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতায় উন্নীত হওয়া যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের রোডম্যাপ মুলত রচিত হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু’র ছয় দফা থেকেই। এটি ছিলো রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু’র দুরদর্শী একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণ আন্দোলনের সূচনা হয়।

পাকিস্তানি শাসন-শোষণ বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে লাহোরে এক জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এইদিন অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ৬ দফা উত্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধুর দাবি আইয়ুব সরকার প্রত্যাখ্যান করে।

বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬ দফা দাবির মুখে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়েন। দেশে ফিরে ৬ দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সারা দেশে ৩৫ দিনে মোট ৩২টি জনসভায় বক্তৃতা করেন। ছয় দফার স্বপক্ষে জনমত প্রবল হয়ে ওঠায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন, গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু। ছয় দফা প্রচারকালে তিন মাসে আটবার গ্রেপ্তার হন তিনি। ১৯৬৬ সালের ৮ মে থেকে একটানা ৩৩ মাস কারাবন্দি ছিলেন জাতির পিতা। বঙ্গবন্ধুর ১৪ বছরের কারাজীবনে এটাই ছিল দীর্ঘ কারাবাস।

বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে নিক্ষেপ করে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়েও ছয় দফার আন্দোলনকে যখন রোধ করা যাচ্ছিল না, তখন বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে চিরতরে তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য আগরতলা মামলা দায়ের করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ১৯৬৬ সালের ৭ জুন সারাদেশে সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করে। এ ধর্মঘটে ঢাকা, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ইপিআর’র গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন শহীদ হন। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় পরাধীন বাঙালি জাতি। জাতির পিতার দূরদর্শী সাহসী নেতৃত্ব ৬ দফা দাবীকে ১ দফায় পরিনত করে হাজার বছরের পরাধীন বাঙালি জাতিকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। জাতির পিতা প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন ৬ দফা বাঙালির মুক্তির সনদ। ৬ দফা’র মূলে ছিল ১ দফা। ১ দফা দাবী ছিল বাঙালির স্বাধীনতা। ৬ দফা দাবীর আন্দোলনে নিহত মনু মিয়া, শফিক, শামসুল হক সহ নিহত সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান তিনি। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সব রাজবন্দির মুক্তির পর মুক্তি লাভ করেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

৬ দফা দাবির পক্ষে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে মধ্য দিয়ে। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু’র আওয়ামী লীগ কে জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচারী পাকিস্তানী শাসকরা আওয়ামী লীগকে সরকার গঠন করতে না দেওয়ায় আবারো বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু’র নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। দু লক্ষ মা বোনের ইজ্জত ও ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় লাল সবুজের পতাকা আর একটি স্বাধীন ভূখন্ড।

ঐতিহাসিক ৬ দফার স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির মুক্তির পথপ্রদর্শক। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায় তিনি চিরকাল ভাস্বর হয়ে থাকবেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com