1. tanvirinternational2727@gmail.com : NewsDesk :
শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁর মহাদেবপুর থানা পুলিশের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন বয়োবৃদ্ধকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগ এর উদ্যোগে মানবতার ভ্যান চালু। ব‌রিশা‌লে হাসপতা‌লের মা‌ঠেও ডায়‌রিয়ার চি‌কিৎসা,দুই রোগীর মৃত্যু ময়মনসিংহের ভালুকায় গৃহবধূ সহ ২ জনের লাশ উদ্ধার ছিন্নমূল জনগনের পাশে টানা তৃতীয় দিন ইফতার হাতে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগ নড়াইলের ব্রিটিশ আমলের সিমানা পিলার ও বোমা তৈরীর গান পাউডার উদ্ধার ময়মনসিংহে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২ নড়াইলে নদীতে গোসল করতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু মুক্তাগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সাময়িক বরখাস্ত আটঘরিয়ায় মেয়েকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করায় মা-বাবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার

|”আই ওয়ান্ট টু কল মাই লইয়ার”।

  • সময় : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪১৮

আশীষ কর্মকার
আইনজীবী, ঢাকা জজ কোর্ট
০৮ সেপ্টেম্বর,২০২০

দুটো কাল্পনিক ঘটনা দিয়ে শুরু করা যাক-
স্থানঃ চা- দোকানে আড্ডা
ঘটনা-১ঃ
জনৈক চাচা- আজম সাহেবের ছোট ছেলেটাকে নাকি পুলিশে ধরছে গতকাল সন্ধ্যা-রাতে? বিষয়টা জানো কিছু?
দোকানদার- হ, ব্রিজের উপরে বন্ধুবান্ধব মিলা আড্ডা দিতাছিল বাইক নিয়া। পুলিশের লগে কি জানি কথা কাটাকাটি হইছে, পরে ছিনতাইকারী কইয়া থানায় ধইরা নিছে।


চাচা- পরে কি থানায় মিটমাট হয় নাই?
দোকানদার- চেষ্টা করছিল আজম ভাই। টাকা চাইছে ১ লাখ। কোথথিকা দিবো? আজকে সকালে ৫০ পিস ইয়াবা, ছুরি আর ২ টা চোরাই মোবাইল সহ চালান দিয়া দিছে কোর্টে, উকিল টুকিল ধরার চেষ্টা করতাছে।


ঘটনা-২ঃ
খবর শুনছো না কি? দিন সাতেক আগে যে উত্তর পাড়ার জামালের লাশ পাওয়া গেছিল ক্ষেতের কোনায়, মনে আছে? ঐ মামলায় আজকে আমাগো পাড়ার হোসেন মিয়ার পোলা আর ২ ভাইস্তারে কালকে অ্যারেস্ট করছে।
দোকানদার- কন কি? ওরা তো ভদ্র শিক্ষিত পোলাপান জানি? জামালরে ওরা মারবো ক্যা?
চাচা- আরে জামালের বড় ভাই থানায় টাকা খাওয়াইছে। নিরীহ পোলাগুলার কি দূর্দশা। ১ জনে নাকি আবার মাইরের ঠ্যালায় খুনের কথা স্বীকারও গেছে।

পরিচিত লাগছে শুনতে? খুবই পরিচিত কারণ আমরা নিজেরা বা আমাদের ঘনিষ্টজন, প্রতিবেশী বা আত্মীয়স্বজনের কেউ না কেউ কখনও না কখনও এরকম বিপদে পড়তে দেখেছি বা শুনেছি। এক্ষেত্রে আমরা কি করি? হয় আকাশ-পাতাল এক করে হলেও পুলিশ কে টাকা দিয় মিটমাট করি। অার না হলে রাজনৈতিক প্রভাবশালী, এলাকার মাতবর গোত্রীয় বা পরিবার-পরিজনের মধ্যে উচ্চপদের পুলিশ-আমলা কেউ থাকলে সেখানে ধর্ন্না দেই।

এটাই আমাদের দেশের কালচার, যার নাম “তদবির”।এর ফলে নিজেকে হেনস্তা হতে হয়, টাকার শ্রাদ্ধ হয় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লাভ তো কিছু হয়ই না উল্টা তদবিরে ফলাফল আরো খারাপ হয়।

স্বভাবতই প্রশ্ন আসে এরকম পরিস্থিতি হলে করণীয় কি? সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদে পরিষ্কার উল্লেখ আছে,

গ্রেপ্তারকৃত কোন ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেপ্তারের কারণ না জানিয়ে প্রহরায় আটক রাখা যাবে না।

গ্রেপ্তারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।

এখন অনেকেই হৈ চৈ শুরু করবেন যে আইন তো আমরাও জানি। পুলিশ তার মানে কয়টা। পুলিশে ছুঁলে যে ৩৬ ঘাঁ- তার প্রতিকার কি?

প্রতিকার ১ টাই- “আইনজীবী”। রোগবালাই ধরলে তার ব্যবস্থা যেমন ডাক্তারের কাছে, তেমনি পুলিশ গ্রেপ্তার করলে বা আইনী জটিলতায় পড়লে তার সবচেয়ে উত্তম ও যুক্তিসঙ্গত সমাধান ” আইনজীবী”। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় কোন এক অজানা কারণে ‘আইনজীবী’ শ্রেণীটা সমাজে মোটামুটি ঘৃণ্য ও সংস্পর্শ বর্জিত একটা শ্রেণীতে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বহুলাংশে এর জন্য দায়ী ৮০-৯০ দশকের বাংলা চলচ্চিত্র ও নাটক গুলো।

সেখানে আইনজীবীদের অর্থপিশাচ, ধূর্ত ও নীতিবিবর্জিত হিসাবে উপস্থাপন করতে করতে মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণাটা বদ্ধমূল করে দিয়েছে। আর আছেন কতিপয় পেশাগত দায়িত্বহীন, অহেতুক লোভী এবং নিম্নমানের বিজ্ঞ আইনজীবীরা যারা কোর্ট-কাচারির জটিল প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে, মক্কেল কে সাত পাঁচ চৌদ্দ বুঝিয়ে, নাকানি চুবানি দিয়ে এমন নাজেহাল করেন যে সাধারণ মানুষ রীতিমত বীতশ্রদ্ধ হয়ে গেছে আইনজীবীদের ওপর।

তারপরেও মানুষ ইচ্ছা-অনিচ্ছায় আইনজীবীর শরণাপন্ন হন, কিন্তু অভিযুক্তকে কোর্টে চালান করে ফেলা হয় তখন। একজন আইনজীবী হিসাবে হওয়া তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ততক্ষণে পুলিশ ফ্যাক্টস সাজিয়ে গুছিয়ে, সাক্ষী-আলামত গড়াপেটা করে মিথ্যা একটা মামলাকেও এত বিশ্বাসযোগ্য করে ফেলে (আমাদের ভাষায় ড্যামেজিং), আইনজীবীর কাছে করার মত তেমন কিছু আর অবশিষ্ট থাকে না।

আর এই কাজে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুলিশ/র‍্যাব/ডিবি যাবতীয় আইন প্রণয়নকারী সংস্থার বহ্মাস্ত্র হচ্ছে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি আদায়। কিন্তু সংবিধানের ৩৩(১) অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে,

“গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে তাঁহার মনোনীত আইনজীবীর সহিত পরামর্শের ও আইনজীবী দ্বারা আত্মপক্ষ-সমর্থনের অধিকার হইতে বঞ্চিত করা যাবে না।”

অতএব পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে নেতা ধরার বা উপর থেকে ফোন করানোর তদবিরের কালচারটা ভাঙুন। গ্রেপ্তারের সাথে সাথে একজন আইনজীবীর সহায়তা নিন, নিজের সাংবিধানিক অধিকার বলবৎ করুন।

আইনজীবীর কাজই হচ্ছে আইনী সহায়তা দেয়া-আপনার স্বার্থরক্ষার জন্য সে পেশাগতভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আপনার পাশে আপনার আইনজীবী উপস্থিত থাকলে পুলিশ মামলা গড়াপেটা বা আলামত রোপণের সুযোগ পাবে না- আর দিনের পর দিন গুম রেখে, টর্চার করে ভুয়া স্বীকারোক্তি আদায়ের তো প্রশ্নই আসে না।

পাশাপাশি নিজেরাও সচেতন হোন, নিজেদের তথ্যসমৃদ্ধ করুন। নীলক্ষেতে ১০০ টাকায় সংবিধান কিনে বা ইন্টারনেট থেকে ফ্রি-তে সংবিধানে মৌলিক অধিকার বিষয়ক অনুচ্ছেদ গুলো (২৬-৪৭) পড়ুন। গ্রেপ্তারের সময় এবং পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন আপনার প্রাপ্য অধিকারগুলো সম্পর্কে অবগত হোন।আমাদের নিজেদের অধিকার ও আইন না জানার যে ঘাটতি, সেটাকে পুঁজি করেই আইনপ্রণয়নকারী সংস্থা ভয় সৃষ্টি করে এবং স্বেচ্ছাচারীতা করার সুযোগটা পায়।

পরিশেষ- ঢালাও ভাবে সব পুলিশ/র‍্যাব বাহিনী খারাপ আর আইনজীবীরা দুধে ধোয়া তুলসী পাতা এটা প্রমাণ করা এই লেখার উদ্দেশ্য না। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে- বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, কাউকে যখন তখন তুলে নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন গায়েব রাখা, ভুয়া স্বীকারোক্তি আদায় করে উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে দেয়া- সর্বোপরি আইনপ্রণয়ন সংস্থা গুলোর ক্ষমতার মাত্রাহীন অপব্যবহার ও নিজেদের সর্বেসর্বা ও আনটাচেবল

ভাবার যে ভয়ানক কালচার দেশে তৈরী হয়েছে সেটা ভাঙ্গার মোক্ষম অস্ত্র হতে পারে নিজেদের আইনী অধিকার বলবৎ- এ সচেষ্ট হওয়া এবং এক্ষেত্রে আপনার পরম বন্ধু হিসাবে একনিষ্ঠভাবে পাশে দাঁড়াতে পারে শুধুমাত্র একজন বিজ্ঞ আইনজীবী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
©বাংলাদেশবুলেটিন২৪