1. tanvirinternational2727@gmail.com : NewsDesk :
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন ২০২২, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

শেষ পর্ব—একজন ফজলুল হক মনিঃ বঙ্গবন্ধুর ছায়াসঙ্গী

  • সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০
  • ৬২৪

যুদ্ধক্ষেত্রে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে মুজিব বাহিনী যুদ্ধ করেছে। তারা দখলদার পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম রণাঙ্গন এবং ঢাকার আশেপাশে বেশ কিছু দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে। মুজিব বাহিনীর সদস্যগণ গেরিলা রণকৌশল বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ছিল এবং তারা ছিল তুলনামূলকভাবে উন্নত অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত।


বিশ শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মুজিব বাহিনী গঠনের ধারণার উন্মেষ ঘটে বলে ধারণা করা হয়। সে সময় কতিপয় জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে এটি একটি একাডেমিক চিন্তা হিসেবে লালিত হত।

মুজিব বাহিনীর অগ্রণী সংগঠকরাই এক সময় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন এবং তারাই ছিলেন ১৯৬৯ সালের এগারো দফা কর্মসূচীর প্রবক্তা।

তাঁরা ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনা করেন, ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং সম্ভাব্য মুক্তিযুদ্ধের পথে সার্বিক প্রস্তুতি সংগঠিত করেন। এ বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি।

বঙ্গবন্ধু নিজেই বার বার বলেছেন, তিনি সমাজতন্ত্র তথা শোষণ বঞ্চনাহীন বাংলাদেশ দেখতে চান। একই সঙ্গে চান গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ। ধর্মনিরপেক্ষতাও অপরিহার্য।

সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী শেখ মনি, সত্তরের নির্বাচনী কর্মসূচিতে অর্ন্তভুক্ত করেন, পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশকে ৬ দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসন, ব্যাংক-বিমা ও ভারী শিল্প, বৈদেশিক বাণিজ্য, পাট ও তুলা ব্যবসা জাতীয়করণ, পূর্ব পাকিস্তানের জায়গিরদারি, জমিদারি ও সর্দারি প্রথার উচ্ছেদ, ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমির খাজনা মওকুফ, শ্রমিকদের ভারী শিল্পের শতকরা ২৫ ভাগ শেয়ার ও বাস্তুহারাদের পুনর্বাসন ইত্যাদি। (স্মরণীয়-বরণীয়, ব্যক্তিত্ব, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়-পৃ:৪৬১)।

আগেই আমি উল্লেখ করেছি, শেখ মনি ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধু নির্দেশিত স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নিউক্লিয়াস বাহিনীর পরিকল্পক ছিলেন, তেমনি ১৯৭১ সালের সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিব বাহিনী গঠনের অন্যতম প্রণেতা ছিলেন। এই ভূমিকা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও আজ বুঝতে পারি, কেন শেখ মনি মুজিব বাহিনী গঠন করে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
সহজেই বিষয়টি অনুমান করা যায়, যদি সেই সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করি। পাকিস্তানের শাসকরা তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য, বিশেষ করে বাঙালিদের অধিকার বঞ্চিত করার জন্য ধর্মীয় বিভেদ উস্কে দিয়েছে। ১৯৭১ সালের গণহত্যা তাদের কাছে ছিল ‘হিন্দুদের নির্মূল অভিযান’। আওয়ামী লীগ যেহেতু ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি অধিকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়, তাই আওয়ামী লীগকেও নিশ্চিহ্ন করতে হবে। এটাই ছিল একমাত্র লক্ষ্য। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় মুজিব বাহিনী গঠনের প্রয়োজন ছিল অনেক বেশি।

মুজিব বাহিনী গঠনের পাশাপাশি শেখ মনি প্রকাশ করেন ‘বাংলার বাণী’ পত্রিকা। এ পত্রিকায় তিনি নিজে লিখতেন। থাকত রণাঙ্গণের খবর। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলার বাণী দৈনিক পত্রিকা হিসেবে তাঁর সম্পাদনায় আত্মপ্রকাশ করে।

শেখ মনি ছিলেন যেমন মাঠের নেতা, তেমনি ছিলেন বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা ধারণকারীও। প্রতিটি কথা ও কাজকে তিনি যুক্তি তর্কের মাধ্যমে জবাব দিতেন। আব্দুল গাফফার চৌধুরী সম্পর্কে বলেন, দোহাই গাফফার ভাই গোস্বা করবেন না। আপনার নিবন্ধে আপনি বাংলার বাণীর হিম্মতের কথাটি তুলেছেন। এটা যদি কমপ্লিমেন্ট হয়ে থাকে তাহলে আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আর যদি এটা খোঁচা মারার জন্য আপনি লিখে থাকেন তবে আমি বিনয়ের সাথে বলছি, আমার অবস্থা আপনার থেকে কোনক্রমেই সুবিধাজনক নয়। আপনার যোগ্যতা আছে, মেধা আছে, আছে অভিজ্ঞতা এবং পেশার ব্যাপারে সুনাম। একটা গেলে আর একটা পেয়ে যাবেন। আর ঐ একই একই কাজ করে আমাকে হারাতে হবে জাত। একবার হারালে আর ফিরে পাবো না। জানেনইতো আমার শত্রু সংখ্যা এদেশে আপনার চাইতে অনেক বেশি। (২৭ এপ্রিল, ১৯৭৩ বাংলার বাণী)

স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি আওয়ামী যুবলীগ গঠন করেন। এ সময়ে তাঁর বয়স ছিল ৩২ বছর। একই সময়ে পত্রিকার সম্পাদনার কাজ চালিয়ে যান। শ্রমিক আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট থাকেন। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য তিনি। দক্ষ সংগঠক, পরিশ্রমী, সাহসী ও উদ্যমী। কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতার আশেপাশেও নেই। মন্ত্রী – এম.পি হতে পারতেন সহজেই। তিনি এ পথে চললেন না। শেখ মনি ছাত্র নেতা, শ্রমিক নেতা, যুবনেতা, মুক্তিযোদ্ধা সর্বোপরি মাঠের নেতা ছিলেন বলেই আত্মবিশ্বাস টা অনেক বেশী ছিল।

এ কারণে এনায়েত উল্লাহ খানকে বলতে পেরেছেন, শেখ মনিরা জীবন বাজী রেখে মোনায়েমের কারাগারে অশেষ নির্যাতন আর ইয়াহিয়ার সেনাবাহিনীর সাথে লড়াই করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে।

স্বাধীন বাংলাদেশে ভূঁইফোড় হিসেবে তাদের আবির্ভাব ঘটেনি। পরাজিত রাজনৈতিকদের গ্লানিও তাদের নেই। বাংলার বাণী বাংলাদেশে যদি আজ কোন সত্য আসন দখল করে থাকে তাহলে স্বাধীনতা সংগ্রামে তার বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য, কারো পৃষ্ঠপোষকতার জন্য নয়।

ভুলে যান কেন আপনারা যখন চায়ের কারবার করেছেন আমি তখন যুদ্ধ করেছি। আপনি যখন মোনায়েমের গুন্ডার পার্টনারশীপ বাগিয়েছেন আমি তখন জেল খেটেছি। আপনি যখন তেল কোম্পানীর নকর ছিলেন, আমি তখন আন্দোলন চালিয়েছি।

আর আপনি যখন হামিদুল হক চৌধুরীর হেরেমে সাংবাদিকতার তালিম নিচ্ছিলেন, আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সামরিক শাসন বিরোধী সংগ্রাম শুরু করেছি।( ১৯৭৩ সালের ১ লা অক্টোবর বাংলার বাণী)

শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন বড় মাপের দার্শনিক। ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সমস্যা বের করেছিলেন। এ জন্যই তিনি বলেছিলেন – “রাজনৈতিক যুদ্ধে আমাদের পরাজিত করতে পারে এমন শক্তি বাংলাদেশে সহজেই জন্মাবে না। কিন্তু আমাদের সমাজনীতি, অর্থনীতি যদি ব্যর্থ হয়ে যায় তাহলে রাজনীতিটাই টিকবে না”।


টেকসই উন্নয়ন, এমনকি দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে যে প্রগাঢ় চিন্তা করতেন শেখ মনি – তাঁর এই উদ্ধৃতি দ্বারা সহজেই বোধগম্য হয়।

শেখ ফজলুল হক মনি একটি নাম, একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। সাথে সাথে বাঙালি সংস্কৃতির উপাসকও। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি চেয়েছিলেন স্বতন্ত্র একটি জগৎ গড়ে তুলতে। মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল যেন নিজস্বতা হারিয়ে না বসে।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত দৈনিক বাংলার বাণী, বাংলাদেশ টাইমস এবং বিনোদন পত্রিকা সাপ্তাহিক সিনেমার সম্পাদক ছিলেন তিনি। বাংলার বাণী যেমন মুক্তিযুদ্ধের মুখপাত্র হয়ে উঠেছিল। আবার তাঁর প্রতিষ্ঠিত সুস্থ বিনোদন ধর্মী সাপ্তাহিক ‘সিনেমা’ পত্রিকা বাঙালি সংস্কৃতির পরিশীলিত বুনিয়াদ নির্মাণে ভূমিকা রেখেছিল।

শেখ মনি মনেপ্রাণে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা গঠন করতে চেয়েছিলেন। শিশু কিশোরদের সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে গড়ে তুলেন শাপলা কুঁড়ির আসরের মত প্রতিষ্ঠান।

শেখ মনি রচিত বেশ কিছু রাজনৈতিক উপন্যাস পাঠক সমাজে-সমৃদত হয়েছে। একটি উপন্যাস অবলম্বনে ‘অবাঞ্ছিতা’ নামে একটি জনপ্রিয় টেলিফিল্মও তৈরী হয়েছে। এছাড়া “গীতারায়” নামে গল্পগ্রন্থ বেশ জনপ্রিয় ছিল ।

শেখ ফজলুল হক মনি সংবাদ পত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। সংবাদপত্রকে তিনি সমাজের দর্পণ হিসেবে বিবেচনা করতেন। তিনি নতুন পত্রিকা বের করার পিছনে দুটো যুক্তি দেখান (১) মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য ও সঠিক ইতিহাস সংবাদপত্রের মাধ্যমে তুলে না ধরলে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি সুযোগ পেলেই আঘাত হানবে এবং বিভ্রান্ত করবে দেশের সাধারণ মানুষকে। (২) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দোহায় দিয়ে সাংবাদিকের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার পথ চিরতরে বন্ধ হবে। তখনকার বাংলাদেশ পেক্ষাপটে তার দুটো যুক্তিই ছিলো অত্যন্ত সময় উপযোগী। (শেখ মনি – এম এ মুফাজ্জল, দৈনিক নিউ নেশন সম্পাদক)।

শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। তিনি এ পর্যন্ত যা সৃষ্টি করেছেন, সবই ছিল সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। সেই সঙ্গে তিনি সমসাময়িক প্রথিতযশা সাংবাদিকদের সাথে তুলনীয় ছিলেন। সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন,
“সংবাদপত্রের মালিক অনেকেই হতে পারেন।

টাকা থাকলেই হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে যেমনটা হচ্ছে।কিন্তু সাংবাদিকতা পেশার ব্যাক গ্রাউন্ড নিয়ে যারা এসেছেন তাদের সংখ্যা খুব কম। মাওলানা আকরাম খাঁ, তফাজ্জল হসেন মানিক মিয়ার নাম এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয় । শেখ ফজলুল হক মনি তাদেরই মত উদ্যোক্তা ছিলেন।

যেহেতু তিনি নিজে সাংবাদিকতা করে সংবাদপত্র প্রকাশ করেছেন সেজন্য পেশার প্রতি ছিল তার ঐকান্তিক ভালবাসা।সংবাদপত্রকে তিনি শিল্প হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন।” ( সাংবাদিক মনি ভাই,রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ,দৈনিক ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রধান সম্পাদক)।

১৯৭২ সালের অক্টোবর মাসে সিরাজুল আলম খান, এম এ জলিল, আ স ম আব্দুর রব প্রমুখ যখন উগ্র স্লোগান তুলে জাসদ গঠন করেন, বঙ্গবন্ধু সরকারকে দুর্বল করে ফেলার দেশী বিদেশী চক্রান্ত বাস্তবায়নে প্রধান ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন তখন শেখ ফজলুল হক মনি তাদের অন্যতম টার্গেটে পরিণত হন। ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে সাতজন ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে এ খুনি চক্র গ্রেফতার হয়, বিচারে শাস্তি হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা জবরদখল করার পর জিয়াউর রহমান তাদের মুক্ত করে দেন। ১৯৭৪ সালের প্রথম দিকে শফিউল আলম প্রধানের মিথ্যা – কুৎসাপূর্ণ আক্রমণের প্রধান টার্গেট ছিলেন শেখ মনি।

এসব অনেক কারণে শেখ ফজলুল হক মনি মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী অস্থির যুবসমাজকে সৃজনশীল খাতে প্রবাহিত করতে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শােষণমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা অর্থাৎ সকল ধর্মের মানুষের স্ব স্ব ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মূলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমােচন, শিক্ষা সম্প্রসারণ, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তােলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের মধ্য থেকে স্বাধীনতা ও প্রগতিকামী যুবক ও যুব মহিলাদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে একটি সুশৃংখল সংগঠন গড়ে তােলাই ছিল যুবলীগের মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য।
একাত্তর পূর্ববর্তী আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর এক নম্বর সিপাহসালার।

তেমনি একাত্তর পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর চেতনায় শোষণহীন সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ’ও ফ্রন্ট ফাইটারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। তিনি মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন স্বাধীনতা পরবর্তী যুব সমাজকে সৃজনশীল ও আদর্শ দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সে সময়ে কোন যুব সংগঠন ছিল না। অনেকটা সে কারণেই শেখ ফজলুল হক মনি শূন্যতা পূরণে এগিয়ে আসেন। ‘তলা বিহীন’ ঝুড়ি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দেশটি গড়ে তুলতে হলে তরুণদের ভূমিকা নিতে হবে – যুবলীগ গঠনের পেছনে এটাই ছিল প্রেরণা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শও ছড়িয়ে দিতে হবে। সে সময়ে ‘মুজিববাদ’ বিশেষভাবে আলোচনায় ছিল। চার মূলনীতি ও মুজিববাদ যেন সমার্থক হয়ে উঠেছিল।

শেখ ফজলুল হক মনি বিশ্বাস করতেন, নতুন দেশ ও সমাজের চিন্তা করলে পরিকল্পিত কার্যপন্থার বিকল্প নেই। দক্ষ রাজনীতিবিদের একটু ভুলের কারণে ইতিহাসের কালো অধ্যায়ে নিক্ষিপ্ত হতে পারেন। সমসাময়িক বিশ্ব ও বৈশ্বিক রাজনীতির ওপর তাঁর প্রগাঢ় জ্ঞান ছিল।

তাঁর লেখা প্রবন্ধ ‘বিপ্লবের পরে প্রতিবিপ্লব আসবে’ পড়লেই বুঝা যায় বিশ্ব রাজনীতির সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার পেক্ষাপট। রুশ নেতা ক্রেনেস্কি জারের রাজাকে সরিয়ে ক্ষমতায় বসেছিলেন। তার কাছ থেকেই ক্ষমতা কেড়ে নিলেন লেনিন। অথচ রাশিয়ায় লেনিনের চেয়ে ক্রেনেস্কির জনপ্রিয়তা ছিল বেশি। তবুও যে সে সফল হলো তার প্রধান কারণ জারের শাসনের পর রাশিয়ার প্রশাসনযন্ত্রে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল ক্রেনেস্কি নিজের লোক দিয়ে সেটা পূরণ করার ফুরসত পাননি বা সুযোগ নেননি।

পক্ষান্তরে লেনিন সেই শূন্যতার সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন নিজের সপক্ষে কমিউনিস্ট বিপ্লবের অনুকূলে। জার সরে গেল। সমাজবাদী (!) ক্রেনেস্কি বিতাড়িত হলো কিন্তু লেনিন বেঁচে রইল নতুন রাশিয়ার জন্মের মধ্য দিয়ে। ইতিহাসের পাতায়, বিশ্বের সমাজবাদী আন্দোলনের ধারা বিবরণীর ছত্রে ছত্রে তার নাম মুদ্রিত হলো, ‘মহান লেনিন’ হিসেবে।

শেখ মনি যেমন দার্শনিক ছিলেন, তেমনি ছিলেন ভবিষ্যৎ চিন্তক। তিনি অন্যান্য দেশের জাতীয় নেতাদের পতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা ম্যাসেজ দিতে চেয়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও কেন ইন্দোনেশিয়ার নেতা ড. সুকর্ণের পতন হলো।

ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণো ক্ষমতায় এসেছিলেন বিপ্লবের পথ ধরে, যুদ্ধের পরে। তার দেশে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। সুকর্ণো কেবলমাত্র নব্য ইন্দোনেশিয়ার
জন্মদাতাই নন, তিনি ছিলেন সর্বকালের সর্বযুগের ইন্দোনেশীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে সব চাইতে উজ্জলতম নক্ষত্র, সব চাইতে চাকচিক্যময় মহাপুরুষ।

ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে, জনতার মনে এবং বিশ্বের মনীষীদের দৃষ্টিতে তিনি এতটা শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন যে, অনেকে তার মধ্যে দৈবশক্তির, ঐশী প্রভাবের মাহাত্মা আরােপ করতে দ্বিধাবােধ করেননি। অথচ সেই সুকর্ণো আজ হারিয়ে গেলেন ইতিহাসের পাতা থেকে।

বিশ্ব নাট্যমঞ্চের সব চাইতে দুর্দমনীয় প্রতিভাবান নায়ক একদিন মঞ্চের উপর দুমড়ে পড়লেন আকস্মিক, অভাবিত মূহুর্তে। হতবাক বিশ্ব, বিষ্ময়, বিমূঢ় ইন্দোনেশিয় জনগণ, অবাক বিষ্ময়ে দেখলো, সুকর্ণো আর তার দেশের কর্ণধার নন। যা কেউ কল্পনায়ও আনেনি, বা কেউ ভাবতে পারেনি, বাস্তবে তাই ঘটে গেল।

এই পতন বঙ্গবন্ধুর বেলায়ও হতে পারে বলে সন্দেহ করেছিলেন তিনি। চিন্তা চেতনায় শেখ মনি সব সময় ছিলেন বিচক্ষণ।

বঙ্গবন্ধুকে, তাঁর দলকে দুর্বল করে ফেলতে হলে শেখ ফজলুল হক মনিকে দুর্বল করে ফেলতে হবে, এটি চক্রান্তকারীদের বুঝতে সমস্যা হয় নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দিনেই শেখ ফজলুল হক মনিকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় তার কারণ সহজেই বোধগম্য।

খুনি চক্র জানত – প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তোলার উপযুক্ত ব্যক্তি কে কে হতে পারে। শেখ ফজলুল হক মনির নামটি ছিল তাদের তালিকার একাবারে উপরের দিকে।

শেখ ফজলুল হক মনি ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা ছিলেন। তিনি দেখেছিলেন প্রশাসনের ভিতর ঘাপটি মেরে বসে আছে প্রতিক্রিয়াশীল স্বাধীনতা বিরোধীরা। মোনায়েমের আমলা দিয়ে মুজিবের শাসন চলতে পারে না।

এই শিরোনামে শেখ মনি উপসম্পাদকীয় লিখেছিলেন। যে লেখা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিলো প্রশাসনে। আমলারা একযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ছুটে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর কাছে অভিযোগ নিয়ে। একজন মন্ত্রী টেলিফোন করে শেখ মনিকে বলেছিলেন, এ ধরনের লেখা প্রশাসনকে দুর্বল করবে। আমলারা আমাদের বিরুদ্ধে চলে যাবে।

শেখ মনি বলেছিলেন, আজ হয়তো ক্ষমতায় থাকার জন্য আমার সমালোচনা করছেন কিন্তু মনে রাখবেন অল্প দিনের মধ্যেই বুঝতে পারবেন এই প্রশাসন কার। তখন অনেকেই শেখ মনিকে ভুল বুঝতেন। তারা মনে করতেন তিনি বোধকরি বিকল্প কোন শক্তির উন্মেষ ঘটাতে চাচ্ছেন।

এই ধরনের অভিযোগ বঙ্গবন্ধুর কাছেও করা হতো। সিনিয়র মন্ত্রীরা নালিশ জানাতেন। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর আমলাদের অবস্থা কি হয়েছিল তা অনেকেরই জানা।

খন্দকার মুশতাকের পেছনে ১৫ আগস্টের দিন জুম্মার নামাজ আদায়ের জন্য আমলাদের রীতিমত প্রতিযোগিতা ছিল। ( মনি ভাই, অকৃতজ্ঞ থেকে গেলাম- মতিউর রহমান চৌধুরী, মানব জমিনের সম্পাদক)

বাংলাদেশ জন্ম নেয় বিপুল খাদ্য ঘাটতি নিয়ে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল শূন্য। শিল্প পণ্য আমদানি করতে দরকার ছিল প্রচুর অর্থ। জ্বালানী তেলের পুরোটাই আমদানি করতে হতো।

কিন্তু তেলের দাম হু হু করে বাড়ছিল। স্বাধীনতা বিরোধীরা এসব প্রতিটি সমস্যার জন্য দায়ী করতে থাকে বঙ্গবন্ধুকে, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম গড়ে তোলা দল আওয়ামী লীগকে এবং বিশেষভাবে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী দেশ ভারতকে।

এমনকি যুবলীগ – ছাত্রলীগকে এই নতুন অপশক্তিকে মোকাবেলা করতে হয়। এ কারণে তাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। শেখ মনির যুবলীগ সকল সমস্যা মোকাবেলা করছিল। শেখ মনি সব সময় সতর্ক দৃষ্টি রাখছিলেন যুবকদের মধ্যে কোনভাবেই যেন ভুল মেসেজ না যায়।

শেখ ফজলুল হক মনির উপস্থাপন ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। তিনি সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় সব কিছু তুলে ধরতেন। অজস্র লেখায় নজীর মেলে। ‘দূরবীনে দূরদর্শী’র লেখাগুলো পড়ে উপলব্ধি করা যায় শেখ মনির কলামে ছিল যথার্থ লেখকের ক্ষমতা। গদ্য শৈলীর প্রশ্নে বঙ্কিম চন্দ্রের মতো অনুপেক্ষণীয় গদ্যের বড়গুণ সরলতা এবং স্পষ্টতা।

শেখ মনির কলামগুলোতে তার নিজস্ব মত সরল-সাবলীলভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তার কথার সপক্ষে তথ্যের সন্নিবেশে কোনো ঘাটতি নেই। তিনি তাত্ত্বিকও ছিলেন। তত্ত্ব এসেছে অভিজ্ঞতা ও অধীত বিদ্যার উৎসমূল থেকে।

বারবারই তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবন সংশয়ের ব্যাপারটি ভাবছিলেন। তাই বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। আমাদের জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভাবনা-চিন্তা আমাদের সাধের বাংলাদেশটিকে কেন্দ্র করে।

বঙ্গবন্ধুর জীবন আমাদের মতো একটি সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত সমস্যা সঙ্কুল দেশের মানুষের জন্য অশেষ মূল্যবান। চীন, রাশিয়া, আমেরিকার জনগণের দৃষ্টিতে সেখানকার নেতাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। মাও সে-তুং না থাকলে, নিক্সন না থাকলে বা ব্রেজনেভ, কোসিগিন না থাকলে সেখানে আজ আর সমস্যা হবে না।

কারণ সেখানকার সমাজ আজ একটা পথ ধরে এগিয়ে চলেছে। তাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য সড়ক নির্মাণ হয়ে গেছে। আমরা কেবল শুরু করেছি। আবর্জনা সাফ করে আমাদের যাত্রা পথ তৈরি হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন সেই পথপ্রদর্শক কাণ্ডারি। খোদা না করেন, তাকে যদি আমরা হারাই, তাহলে বাংলার এই সাড়ে সাত কোটি দুঃখী মানুষের ভাগ্যে কি আছে! সুতরাং জাতীয় স্বার্থেই তার জীবনের জন্য যে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে তার চেয়ে শতগুণ কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা দরকার ছিল।’ (দূরবীনে দূরদর্শী- পৃ:১২৩)।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ শুরু থেকেই সকল বাধা চূর্ণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনের জন্য যুবসমাজকে সংগঠিত করার দায়িত্ব পালনে যত্নবান ছিল। তবে তাদের কাজে বিঘ্ন আসে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বা জাসদের তৎপরতায়।

এ সংগঠনে যারা যোগ দিয়েছিল, তাদের একটি অংশ আসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের মধ্য থেকে। তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। তবে এ দলে আরেক অংশ যুক্ত হয় মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির মধ্য থেকে। ক্রমে তারাই হয়ে ওঠে পরাক্রমশালী। যে সকল আলবদর ও রাজাকার এবং তাদের দল জামায়াতে ইসলামী – মুসলিম লীগের নেতা কর্মী স্বাধীনতার পর পালিয়ে ছিল, তারা জাসদ গঠিত হওয়ার পর আশার আলো দেখতে পায়।

ভোল পাল্টিয়ে জাসদে ঢুকে পড়তে থাকে। তারা সহিংস পথ অনুসরণ করতে থাকে। নানা অপপ্রচারে মেতে থাকে।
শেখ মনি সকল বিষয়ের নেতিবাচক দিক অনুধাবন করেছিলেন। তিনি হয়ত ব্যক্তিগতভাবে বঙ্গবন্ধুকে সাবধান করেছিলেন। উপায়ান্তর না দেখে শেষ পর্যন্ত তিনি কলমও ধরেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫-এ জাতীয় ঐক্যের রাজনৈতিদক দল বাকশাল গঠনের পর শেখ ফজলুল হক মনি বাকশালের অন্যতম সম্পাদক নির্বাচিত হন। জাতীয় যুবলীগের দায়িত্ব দেয়া হয় তোফায়েল আহমদকে। নতুন ধারার আন্দোলন গড়ে তুলতে এ সংগঠন মনোযোগী হয়। কিন্তু ১৫ আগস্টের নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডের পর যুবলীগ-ছাত্রলীগ সহ সকল সংগঠনকে ফের মনোযোগ দিতে হয় মিছিল-সমাবেশ-হরতালের মত কর্মসূচির প্রতি। পরের দুই দশকের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুবলীগ থাকে সামনের সারিতে।

শেখ ফজলুল হক মনি ব্যক্তি জীবনে ২ পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। জ্যেষ্ঠ পুত্র বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে সামস পরশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজীতে মাস্টার্স এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও ইংরেজীতে ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে একটি বেসরকারি ইউনির্ভাসিটিতে ইংরেজীতে অধ্যাপনা করছেন। কনিষ্ঠ পুত্র শেখ ফজলে নূর তাপস একজন তরুণ ব্যারিস্টার ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউ মার্কেট (ঢাকা-১২) এলাকা থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম আইনজীবি ছিলেন।

শেখ ফজলুল হক মনির শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা শেষে বাস্তবে রূপ নিল। কোনো নিরাপত্তা দিয়েই আমরা বঙ্গবন্ধু ও শেখ মনিকে ধরে রাখতে পারিনি। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সাথে শেখ ফজলুল হক মনি ও তাঁর স্ত্রী বেগম আরজু মণি (বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নি) শাহাদাৎ বরণ করেন।

শেখ ফজলুল হক মনির রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন ছিল দেশপ্রেম ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। বারবারা বিডলার খ্যাত কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, “সেই একটা সময় ছিল, ত্যাগ-ব্রতের রাজনীতি তাদের ঘিরে যারা জড়ো হতেন তাদের মধ্যে গভীর দেশপ্রেম ছিল। রাজনীতি চর্চার জন্য শিক্ষা ও আদর্শ ছিল, চরিত্রে সংহতি ছিল। তারা দেশের মানুষকে ভোটার বা রাজনীতিকে ক্ষমতার সিঁড়িই শুধু ভাবতেন না, বড় করে দেখতেন।

আমাদের মনি সাহেব ছিলেন এই দলের মানুষ। মনি ভাইকে আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও সালাম।” শেখ মনির রাজনৈতিক দর্শন ও চিন্তার দূরদর্শিতা যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি, তাহলেই তাকে স্মরণ করা সার্থক হবে।

বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখতেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতেন শেখ ফজলুল হক মনি। আসুন শেখ মনির দেখানো পথে বাংলার যুব সমাজকে পরিচালিত করি।

এ্যাডভোকেট শেখ নবীরুজ্জামান বাবু
বৃত্তিপ্রাপ্ত পিএইচডি গবেষক (ঢাবি)
সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ
সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
©বাংলাদেশবুলেটিন২৪