বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ডিআইজি পদে পুলিশের ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি
চিকিৎসার অভাবে বন্দি জীবন কাটছে শংকরীর

চিকিৎসার অভাবে বন্দি জীবন কাটছে শংকরীর

আল নোমান শান্ত
দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধিঃ

যে বয়সে শংকরীর স্বামী সন্তান নিয়ে একটি সাজানো-গুছানো সংসার থাকার কথা সে বয়সে কিনা বাড়ির পুকুর পাড়ের এক পাশে টিনের তৈরি ভাঙা-চোরা পরিত্যক্ত একটি টয়লেটে বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন। অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় ২০ বছর যাবত এভাবে কাটছে মানসিক ভারসাম্যহীন ৪৫ বছর বয়সী শংকরীর জীবন। তিনি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকার মৃত শম্ভুলাল গুহের মেয়ে। তিন বোন, এক ভাইয়ের মধ্যে শংকরী দ্বিতীয়। তার পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, ‘লেখাপড়ায় খুব মেধাবী ছিলো শংকরী । স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন তার বাবার মৃত্যু হয়। আর্থিক সংকটের কারণে তখন তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সংসারের কাজে মনোযোগ দেয় সে। ২০০১ সালে হঠাৎ করে একদিন নাকের পলিপ সমস্যা দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যরা তার অনেক চিকিৎসা করিয়েছেন তবুও সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়নি।

এরপর থেকে অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তন হতে শুরু করে শংকরীর আচরণে। একপর্যায়ে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। তখন থেকে শুরু হয় তার বন্দি জীবন। এরপর তার মা তাকে দেখাশোনা করতো। ২০১৩ সালের শেষ দিকে তিনিও পারি জমিয়েছেন পরপারে। এরপর থেকে সংসারের সকল দায় দায়িত্ব পড়ে তার ছোট ভাই জীবন লাল গুহের কাঁধে। সামান্য বেতনে জীবন লাল গুহ চাকরি করেন স্থানীয় একটি প্যাথলজিতে। সে টাকায় তিনবেলা সবার মুখে খাবার যোগাতেই হিমশিম খায় সে। তার উপর শংকরীর উন্নত চিকিৎসা কেনোভাবেই করানো সম্ভব হয়নি তার।

শংকরীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাদের সম্পদ বলতে যা আছে একটি ভাঙা ঘর। ওই ঘরে শংকরীর ছোট ভাই জীবন লাল গুহ তার স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছে। বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ের এক পাশে টিনে মোড়ানো পরিত্যক্ত ভাঙা টয়লেটে বসসাস করছে শংকরী। টয়লেটে বাঁশের মাচার ওপর কাঠের তক্তা পেতে বিছানা বালিশ ছাড়া শুয়ে বসে জীবনের ২০ বছর পার করছে শংকরী। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম,পয়ঃনিষ্কাশনসহ সব কিছু চলছে টয়লেটের ভেতরেই।

বর্তমানে চিকিৎসা না হওয়ায় মানসিক অবস্থা আরো অবনতি হয়েছে শংকরীর। তবে উন্নত চিকিৎসা ও সহযোগীতা পেলে শংকরী আবারো সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে বলে মনে করছেন প্রতিবেশিরা।

প্রতিবেশী ধনেশ পত্রনবীশ বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর যাবত শংকরী মানসিক ভানসাম্য হারিয়ে এভাবে বসবাস করছে। তার ভাইয়ের সামর্থ্য নেই যে বোনকে উন্নত চিকিৎসা করাবে। কারণ সে নিজেই থাকে একটি ভাঙা ঘরে। সরকার ও এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে এসে শংকরীকে উন্নত চিকিৎসা করালে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।

শংকরীর ভাই জীবন লাল গুহ বলেন, ২০০১ সালে আমার বোন মানসিক ভারসাম্য হারান। এরপর বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি কিন্ত টাকার অভাবে কখনও উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি বোনটিকে। আমার সামান্য বেতনে কেনো রকম সংসার চালায় । সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আমার আকুল আবেদন আমার বোনটির জন্য উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থ্য করা।

পৌর মেয়র মো. আলা উদ্দিন বলেন, শংকরীর বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অতিদ্রুত শংকরীকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাজীব উল আহসান বলেন, শংকরীর বিষয়টি শুনে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রাথমিকভাবে তার ঘর বানানোর জন্য টিন ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। পরবর্তীতে সকল ধরনের সরকারি সহযোগিতা করা হবে শংকরীকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com