বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
যশোরে কপির চারায় কৃষকদের ভাগ্য বদল

যশোরে কপির চারায় কৃষকদের ভাগ্য বদল


বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি


যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনয়নের আব্দুলপুরে উৎপাদিত কপির চারা বিক্রি করে বহু কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতিবিঘা জমিতে বীজ বপন করে কপির চারা উৎপাদন পর্যন্ত খরচ হয় ১ লাখ টাকার সামান্য বেশি। খরচ বাদে আড়াই লাখের বেশি টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। যে কারণে চারা উৎপাদন খরচের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় নতুন নতুন কৃষক আগ্রহী হচ্ছেন।
আব্দুলপুর গ্রামের একটি মেঠো পথের চারিপাশে সবুজ রঙয়ের দৃশ্য। যে কোন পথচারীর নজর ছুঁয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। চারা উৎপাদন করে আব্দুলপুর গ্রামের সুনাম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন কপির চারার গ্রাম হিসেবে পরিচিত আব্দুলপুর। বাণিজ্যিকভাবে কপি চারার আবাদ করছেন কৃষকরা। বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন প্রতি মৌসুমে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। ১ যুগ আগে নিজেদের প্রয়োজনে চারা উৎপাদন শুরু করেন এখানকার চাষিরা। এখন প্রায় সাড়ে তিনশ বিঘা জমিতে কপির চারা উৎপাদন করা হয়। এখানকার উৎপাদিত কপির চারা প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। চারা উৎপাদনে অনেকই নিজেদের ভাগ্য ঘুরিয়েছেন। অনেক কৃষক হয়েছেন লাখপতি। স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বীজতলার আকার ১ মিটার পাশে ও লম্বায় ৩ মিটার লম্বা হয়। সমপরিমাণ বালি, মাটি ও জৈবসার মিশিয়ে ঝুরাঝুরা করে বীজতলা তৈরি করতে হয়। দ্বিতীয় বীজতলায় চারা রোপণের আগে ৭/৮ দিন পূর্বে প্রতি বীজতলায় ১০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১৫০ গ্রাম টিএসপি ও ১০০ গ্রাম এমওপি সার ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। পরে চারা ঠিকমত না বাড়লে প্রতি বীজতলায় প্রায় ১০০ গ্রাম পরিমাণ ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দেয়া ভাল। আব্দুলপুর গ্রামের চাষি আজিজুর রহমান জানান, আষাঢ়ের শুরুতে জমিতে বেড দিয়ে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়। তারপর বপন করা হয় বাঁধাকপি ও ফুলকপির বীজ। বীজ থেকে চারা গজাতে এক মাস সময় লাগে। এই চারা চাষিদের কাছে বিক্রি করা হয়। তিনি ৬ বছর ধরে কপির চারা উৎপাদন করছেন। আজিজর রহমান জানান, এবারও তিনি ১২ কাটা জমিতে মোট ৮০ টি তৈরি করে বাঁধা কপির বীজ বপন করে। প্রতি বেডে চারা উৎপাদনে তার খরচ হয়েছে আনুমানিক  খরচ ১ হাজার টাকা। কিন্তু বেড প্রতি আড়াই হাজার টাকার বেশি চারা বিক্রি করেছেন। তিনবার চারা উৎপাদনে লক্ষাধিক টাকা লাভের সম্ভাবনার কথা জানান। বর্তমানে বাজারে ফুলকপির ভালো মানের চারা (সনোবক্স) ১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৬০ পয়সা বিক্রি হচ্ছে। একটু দুর্বল চারা বিক্রি হচ্ছে ১ টাকা পিস। আর বাঁধাকপির প্রতিটি চারা (গ্রিন-৬০) ৫০ পয়সা থেকে ৬৫ পয়সা বিক্রি হচ্ছে বলে জানান চাষি আজিজুর রহমান। আরেক চাষি ওসমান গনি জানান, তিনি এক জমিতে চারা উৎপাদন করছেন। এখানকার কপির চারার মান ভালো হওয়ায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুনাম রয়েছে। ফলে চারা বেশি দামেও বিকিৎ করতে পারেন তারা। তিনি আরো জানান, যশোর ছাড়াও খুলনা, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাগুরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গার জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চাষিরা এসে কপির চারা কিনে নিয়ে যান। কপির চারা উৎপাদন করে তিনি লাখ লাখ টাকা লাভবান হয়েছেন। আইয়ুব আলী জানান, গতবারের মতো এবারো ১ বিঘা জমিতে বীজ বোপনের পর চারা উৎপাদন করেছেন। এখানো তার চারা বিক্রি চলছে। ইতিমধ্যে তিনি দুই লাখ টাকার চারা বিক্রি করেছেন। আরো দেড় লাখ টাকার চারা বিক্রি করতে পারবেন। সব মিলিয়ে তিনি মোটা অংকের টাকা লাভ করতে পারবেন বলে আশাবাদী। এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, এক বিঘা জমিতে বীজ রোপন করে চারা উৎপাদন করতে ১ লাখ টাকার সামান্য বেশি টাকা খরচ হয়।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, আষাঢ় মাস থেকে পুরো কার্তিক মাস অবধি বাঁধাকপি ও ফুলকপির চারা উৎপাদন চলে। এরই মধ্যেই চারা বিক্রি করা হয়। অগ্রায়নের মাঝামাঝি সব চারা বিক্রি শেষ হয়। একই পলিথিনে মোড়ানো বেড তৈরি করে জমিতে তিন বার চারা উৎপাদন করতে পারে কৃষকরা। তিনি আরো জানান, কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করে চারার গুণগত মান বজায় রাখতে পরামর্শ দিয়ে থাকি। বীজ থেকে কপির  চারা উৎপাদন অন্য এলাকার কৃষকদের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। এখানকার চারার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com