শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার হামলায় নিহত ২০, খেরসনে সীমিত যুদ্ধবিরতি

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার হামলায় নিহত ২০, খেরসনে সীমিত যুদ্ধবিরতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ বুলেটিন২৪ | ৩০ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫১ মিনিট

ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিনিপ্রো, চেরনিহিভ, ক্রেমেনচুকসহ কয়েকটি শহরে এসব হামলা হয়। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসনে ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, দিনিপ্রো শহরের একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনে ড্রোন হামলায় ১৪ জন নিহত হন। চেরনিহিভ ও ক্রেমেনচুকে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। পরে রাতে রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হন।

রেলস্টেশনে ভয়াবহ হামলা

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা উক্রজালিজনিতসিয়া জানায়, দিনিপ্রোর প্রধান রেলস্টেশনে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ছাড়ার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় জেট ইঞ্জিনচালিত একটি ড্রোন প্ল্যাটফর্মে আঘাত হানে।

হামলার পর রেলস্টেশনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। উদ্ধারকর্মীরা হতাহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেন।

একই শহরে শিক্ষার্থীদের একটি আবাসিক ভবনেও হামলার পর আগুন ধরে যায়। আঞ্চলিক গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, হামলার কারণে প্রায় সাড়ে তিন লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

চেরনিহিভ ও ক্রেমেনচুকে হতাহত

উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ শহরের ব্যস্ত সড়কে ড্রোন হামলায় দুই কিশোরী নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্যাঞ্চলীয় ক্রেমেনচুকে আবাসিক ভবনে হামলায় তিনজন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জাপোরিঝঝিয়ায় কয়েকটি বাসে পৃথক ড্রোন হামলায় আরও ছয়জন আহত হন।

কিয়েভেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার কিছু আগে কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এতে একজন নিহত হন। কয়েকটি গুদামে আগুন লাগে এবং একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলাগুলোকে নিষ্ঠুর ও ইচ্ছাকৃত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

খেরসনে ছয় দিনের যুদ্ধবিরতি

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে ছয় দিনের সীমিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেন ও রাশিয়া জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইন অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে। ফলে ত্রাণ সরবরাহ ও বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে এই যুদ্ধবিরতি শুধু নির্দিষ্ট এলাকার জন্য প্রযোজ্য। ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে হামলা অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে। আগামী মাসে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যেই বড় ধরনের হামলার ঘটনায় শান্তি প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com