ডেস্ক রিপোর্ট:
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের এমন উদ্যোগ নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে আগামী ৩ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় বেলা ১টায় নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন।
এক সাক্ষাৎকারে হেগসেথ বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া জনসাধারণের দেখার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তার মতে, এ ধরনের গুরুতর অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেই মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সে সময় মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল মালিক হাসান সামরিক ঘাঁটির একটি কেন্দ্রে গুলি চালান। এতে ১৩ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন।
হামলার পর হাসান দাবি করেছিলেন, মুসলিম দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০১৩ সালে সামরিক আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দেওয়া হয়।
মার্কিন সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেন। এরপর ৬ অক্টোবর সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে এটি হবে ১৯৬১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। একই সঙ্গে ১৯৪৫ সালের পর প্রথমবারের মতো সামরিক বাহিনীর ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহার করা হবে।
তবে মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ এ ধরনের সম্প্রচারের নৈতিকতা এবং আইনি দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
পেন্টাগন সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিশ্চিত করলেও কোন মাধ্যমে এবং কীভাবে তা দেখানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে নির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
Leave a Reply