ডেস্ক রিপোর্ট:
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় দুই শিশু ও আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীসহ আটজন নিহত হয়েছেন। হামলার পর বন্দুকধারী নিজেও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এতে মোট নয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাতে একটি বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানিয়েছেন, দীর্ঘ ২৮ বছরের বেশি কর্মজীবনে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড তিনি কখনো দেখেননি। তার ভাষায়, এত বড় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ শহরটির ইতিহাসে বিরল।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির বাইরে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে আরও ছয়জন এবং সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছাড়া অন্যরা পারিবারিকভাবে সম্পর্কিত ছিলেন।
তদন্তকারীদের পর্যালোচনা করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৫১ ও ৩৭ বছর বয়সী দুই নারী বাড়ির বাইরে এসে প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বন্দুকধারী বাইরে এসে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাড়ির নিচতলা থেকে পাঁচ বছর ও এক বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় তলা ও সিঁড়ির কাছ থেকে ২৪ ও ৪৪ বছর বয়সী দুই নারী এবং ১৯ ও ২১ বছর বয়সী দুই তরুণের মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতদের একজন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানিয়েছেন, হামলার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সহায়তায় প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ঘটনায় পুরো এরি শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় পুলিশ।
Leave a Reply