ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অন্যতম অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
পারিবারিক সূত্রের বরাতে অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর জানা গেছে।
বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই অভিনয় করে ষাটের দশকে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন নাসিমা খান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা শিল্পীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তার পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামে। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান এবং দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ আমলে ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।
অভিনেতা আনিসের উৎসাহে চলচ্চিত্রে পা রাখেন নাসিমা খান। ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয় করেন তিনি। এতে তার সহশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও শামীম আরা।
১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাসিমা খান। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে কাজ করে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ এবং ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, মুস্তফা, আজিমসহ বহু জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন তিনি।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে টেলিভিশন নাটকেও নিয়মিত অভিনয় করেছেন নাসিমা খান। সময়ের সঙ্গে অভিনয়ের মাধ্যম বদলালেও শিল্পের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অটুট।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক যুগের ইতিহাসে নাসিমা খানের নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গন হারাল এক প্রবীণ অভিনয়শিল্পীকে।
Leave a Reply