শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন

ফের ইতিহাস গড়ার পথযাত্রায় আর্জেন্টিনা

ফের ইতিহাস গড়ার পথযাত্রায় আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক-
চলমান কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে কানাডাকে হারিয়ে পুনরায় ইতিহাস গড়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে (ফাইনাল) ধাবিত হলো আর্জেন্টিনা।
প্রথমবারের মতো কোপা আমেরিকাতে সুযোগ পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েই সেমিফাইনালে ওঠেছিল কানাডা। যখন জানা গেল শেষ চারের লড়াইয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে হবে, তখনই অনুমান করা গেছে অলৌকিক কোনো কিছু না হলে সেমিতেই স্বপ্নযাত্রা থামবে তাদের। তবে ফুটবল মাঠে যেকোনো কিছুই হতে পারে, সেই প্রত্যাশা নিয়েই নেমেছিল কানাডা।

আজ বুধবার (১০জুন) নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অলৌকিক কোনো কিছুই হলো না। আর্জেন্টিনা খেলেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মতোই। কানাডা যে সেমিতে সহজ প্রতিপক্ষ সেটি প্রমাণ করলো লিওনেল মেসিরা। একপেশে লড়াইয়ে কানাডাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে চলে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ৩ মিনিটের মাথায় প্রথম সুযোগ পায় কানাডা। শ্যাফেলবার্গের বাঁ পায়ের শট গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৮ মিনিটের মাথায় সেই শ্যাফেলবার্গই আবার একই পজিশনে বল পেলে সেটিও বাইরে মারেন।

ম্যাচে আর্জেন্টিনা প্রথম আক্রমণের সুযোগ আসে ১২ মিনিটের মাথায়। ডি-বক্সের বাইরে থেকে লিওনেল মেসির বা পায়ের জোড়ালো শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কানাডার খেলোয়াড়রা পেশিশক্তির ব্যবহার করলেও আর্জেন্টিনা মাথা ঠাণ্ডা করে খেলতে থাকে। যার ফলও পেয়ে যায় মেসিরা।

টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার শুরুর ম্যাচে প্রথম গোলটা এসেছিল ম্যানচেস্টার সিটির তারকা আলভারেজের পা থেকে। আজ সেমিফাইনালেও সেই আলভারেজই ত্রাতা হয়ে আর্জেন্টিনাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন। ২২ মিনিটে তার দেওয়া গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো ডি পলের পাস থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন আলভারেজ।

এগিয়ে যাওয়ার আবারো সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। ৩৪ মিনিটে এবার ডি মারিয়া তার চিরাচরিত চিপ শটে বল গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে মারলে সামান্য উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়।

প্রথমার্ধের অন্তিম মুহূর্তে ডি-বক্সের ভেতর সুযোগ পায় কানাডা। জটলা থেকে নেওয়া আলফনসো ডেভিসের শট রুখে দেন মার্টিনেজ। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধেও দাপটের সঙ্গে শুরু করে আর্জেন্টিনা। যে কারণে গোল করতেও বেশি দেরি হয়নি তাদের। ৫১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্জেন্টিনা। এনজো ফার্নান্দেজের শটে মেসির বাঁ পায়ে লেগে কানাডার জালে গিয়ে জমা হয়। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। সেই সাথে এবারের আসরে নিজের গোলের খাতা উন্মুক্ত করেন জাদুকরি মেসি।

এই অর্ধে ম্যাচে ফেরার জন্য দারুণ চেষ্টা চালিয়েছে কানাডা। প্রথমার্ধে রক্ষণাত্মক খেলার চেষ্টা করলেও এবার উপরে এসেছিল তারা। বেশ কিছু আক্রমণ করেছিল তারা। তবে সফলতা আসেনি।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও একের পর এক আক্রমণ করে কানাডা রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে। ৬১ মিনিটে ডি মারিয়ার অ্যাসিস্ট থেকে আলভারেজের একটি শট রুখে কানাডার গোলরক্ষক মেক্সিম ক্রিপাউ। এরপর টানা ২টি আক্রমণ চালায় কানাডা। তবে ব্যর্থই থাকে তারা। ৮৯ ও ৯০ মিনিটেও গোলচেষ্টা চালিয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। তবে আর্জেন্টাইন বাজপাখির বিরত্বে সেই সফলতার মুখ দেখেনি। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com