মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
লং মার্চ স্থগিতে জামায়াতকে শেহবাজের অনুরোধ আশুলিয়ায় কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৭ রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে জাভেদ নামে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডি ১০ নম্বর রোডের আবেশ হোটেলের পেছনের ব্রিজসংলগ্ন লেক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানিতে ভাসতে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করে লেকের কিনারায় নিয়ে আসা হয়। মৃত ব্যক্তির পকেটে থাকা পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে এসে তার স্ত্রী মরদেহ শনাক্ত করেন। জাভেদের বাড়ি রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায়। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ন্যাম ভবনে এমপির স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে উড়ছে বার্সা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের খলিলুর রহমান বাসে আগুন-ককটেল বিস্ফোরণে উত্তপ্ত রাজধানী রাজধানীর চার এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১ ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে পাভেল বাদ? মেট্রোরেলের ৩ প্রকল্প ও ইলেকট্রিক ট্রেনসহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন
‘অচেনা’ বরিশালে খায়েরের পরীক্ষা

‘অচেনা’ বরিশালে খায়েরের পরীক্ষা

বরিশাল সংবাদদাতা

কিছুদিন আগেও বরিশালের রাজনীতিতে অচেনা ছিলেন আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। এই শহরের সাধারণ মানুষও আগে সেভাবে চিনত না তাঁকে। সেই বরিশালেই নৌকা প্রতীক নিয়ে আজ সোমবার জনপ্রিয়তার পরীক্ষায় লড়ছেন খায়ের।

এই পরীক্ষায় তাঁর ভাই, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং ভাতিজা বরিশালের বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ হতে পারতেন সবচেয়ে বড় ভরসা। কিন্তু ভাই-ভাতিজা বা তাঁদের কর্মীরা খায়েরের সঙ্গে নেই বললেই চলে। অথচ এই ভাই-ভাতিজারাই ১৪ বছর ধরে বরিশাল আওয়ামী লীগের মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আছেন।

এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী খায়ের আবদুল্লাহ ভোটের প্রচারে ছিলেন ভাই-ভাতিজার বিরুদ্ধে থাকা দলীয় কর্মীদের নিয়ে। আজ ভোটের দিনও তাঁরাই পাশে থাকছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নানা চেষ্টা সত্ত্বেও দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে দল ঐক্যবদ্ধ হয়নি। ভোটের আগের দিন গতকাল রোববার খায়ের আবদুল্লাহর বক্তব্যেও সেটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

গতকাল দুপুরে নিজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন নৌকার প্রার্থী খায়ের আবদুল্লাহ। সেখানে তাঁর পাশে বড় ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও ভাতিজা সাদিক আবদুল্লাহ বা তাঁদের অনুসারী নেতাদের কাউকে দেখা যায়নি। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খায়ের আবদুল্লাহ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’

খায়ের আবদুল্লাহর অনুসারীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ যারা সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী, তারা দলের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেনি। দলের এই অংশ খায়ের আবদুল্লাহর বিপক্ষে কাজ করেছে। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের খায়ের আবদুল্লাহ বলেন, ‘যাঁদের সঙ্গে বিরোধ আছে বা তৈরি হয়েছে, তাঁদের একত্রে করে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বাকিরা কাজ করবেন কি না, সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

দলের একাংশের অসহযোগিতা আবুল খায়ের আবদুল্লাহর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বরিশাল নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, খায়ের আবদুল্লাহ বরিশালের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তাঁর ভাই ও ভাতিজা চাননি তিনি বরিশালের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। যার কারণে শুরু থেকেই নির্বাচনী মাঠে ভাই-ভাতিজার অনুসারী নেতাদের অসহযোগিতা পেয়েছেন। শেষ দিকে ওই অবস্থার দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন হলেও বিশ্বাসের ঘাটতি প্রকট।

প্রতি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা

আজ সোমবার বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভোট গ্রহণ। এই নির্বাচনে ১২৬টি কেন্দ্রের সব কটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে। এই সিটিতে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮৯ আর নারী ভোটার ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৯ জন। ৩০টি ওয়ার্ডের ৮৯৪টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।

ভোটার উপস্থিতির দিকে নজর সবার

বরিশাল সিটির আগের চারটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দুবার আর বিএনপির প্রার্থী জেতেন দুবার। এবার বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কে হবেন, তা গতকাল শেষ সময় পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি।

তবে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সরকারি মহলের সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও ভোট সুষ্ঠু হলে মেয়র পদে খায়ের আবদুল্লাহকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল করিম এখানে দলের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। তিনি শুরু থেকে আলোচনায় আছেন। আবার অনেকটা নীরবে প্রচার চালালেও শেষ দিকে এসে আলোচনায় চলে আসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক বিএনপি নেতা কামরুল আহসান ওরফে রূপণ। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেনও সরকারবিরোধী ভোট টানতে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। খায়ের আবদুল্লাহ ছাড়া বাকি প্রার্থীদের দৃষ্টি মূলত সরকারবিরোধী ভোটারদের দিকে। সরকারবিরোধী ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, সেটা নির্ভর করছে ভোটার উপস্থিতির ওপর।

এই নির্বাচনে মেয়র পদে আরও তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন জাকের পার্টির মিজানুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান ও মো. আলী হোসেন হাওলাদার। তবে তাঁরা তেমন আলোচনায় নেই। গতকাল পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ।

বা বু ম / এস আর

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে জাভেদ নামে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডি ১০ নম্বর রোডের আবেশ হোটেলের পেছনের ব্রিজসংলগ্ন লেক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানিতে ভাসতে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করে লেকের কিনারায় নিয়ে আসা হয়। মৃত ব্যক্তির পকেটে থাকা পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে এসে তার স্ত্রী মরদেহ শনাক্ত করেন। জাভেদের বাড়ি রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায়। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।



©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com