শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
রাজধানীর রামপুরায় বাস চাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় গ্রেফতার

রাজধানীর রামপুরায় বাস চাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় গ্রেফতার

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:


রাজধানীর রামপুরায় বাস চাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনার অন্যতম হোতা মনির হোসেন ও তার তিন সহযোগীসহ ০৪ জন’কে রামপুরা ও কুমিল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরীর অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। সংঘবদ্ধ এই চক্রের সদস্যরা দেশে/বিদেশে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে দেশব্যাপী অস্থিরতা তৈরীর অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন ঘটনায় মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করে জনমনে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। চক্রের সাথে যুক্ত থেকে একশ্রেণীর স্বার্থান্বেসী মহল মাঠ পর্যায়ে নানাবিধ সহিংসতার মদদ, পৃষ্ঠপোষকতা ও ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই চক্রের সদস্যরা নানাবিধ সহিংসতা, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
গত ২৯ নভেম্বর ২০২১ তারিখে রাজধানী রামপুরায় বাস চাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের মাধ্যমে জনমনে আতংক ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করে অরাজকতা তৈরীর অপচেষ্টা করা হয়। যা উক্ত সময়ে চলমান শিক্ষার্থীদের ‘হাফ ভাড়া’ ইস্যুকে উসকে দিতে অপপ্রচার চালানো হয়। ঘটনার পর বাংলাদেশ জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (ঘঝও) সহিংসতার পেছনের কারণ উৎঘাটনে নিবিড়ভাবে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত, বিভিন্ন ফুটেজ বিশ্লেষণে ও তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের সনাক্ত করতে সক্ষম গোয়েন্দারা। পরবর্তীতে র‌্যাব ফের্সেস ও ঘঝও এর যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

​এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৩ এর অভিযানে গত রাতে রাজধানীর রামপুরা ও কুমিল্লা অভিযান পরিচালনা করে উক্ত অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ঘটনার অন্যতম হোতা মনির হোসেন (৫৪), পিতাঃ মোশারফ হোসেন, রামপুরা, ঢাকা ও তার সহযোগী (১) মোঃ হৃদয় হাসান পারভেজ (১৯), পিতাঃ মোঃ নুরুল ইসলাম, বসুরহাট, নোয়াখালী, (২) মোঃ আলাউদ্দিন সিফাত (২৫), পিতাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান, সরাইল, ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া, (৩) মোঃ নাঈম হাসান মীর (২৪), পিতাঃ মোঃ আনিছ মীর, সদর, ঝালকাঠী’দেরকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা তাদের বর্ণিত ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মনির বর্ণিত ঘটনার অন্যতম হোতা। তার নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় রামপুরায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে বলে গ্রেফতারকৃতরা জানায়। গ্রেফতারকৃতরা আরও জানায়, রামপুরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো দেশব্যাপী একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করার লক্ষ্যে ষড়যন্ত্রকারীদের একটি দুরভিসন্ধি পরিকল্পনা ছিল। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তাৎক্ষনিক ভূমিকা ও গোয়েন্দা তৎপরতায় উক্ত দুরভিসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্রকে রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বর্ণিত ঘটনায় র‌্যাব ঘাতক বাসের কন্ডাক্টর ও হেলপার’কে গ্রেফতাররের মাধ্যমে তাৎক্ষনিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

​গ্রেফতারকারীরা বর্ণিত ঘটনার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানায় যে, তারা জানতে পারে গাজীপুরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামপুরায় সম্ভাব্য উত্তেজনা সৃষ্টির আশংকা রয়েছে। উক্ত ঘটনাকে ব্যবহার করে তারা রামপুরার বিটিভি ভবন এলাকায় সম্ভাব্য নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

গ্রেফতারকৃতরা গাজীপুর চৌরাস্তার ঘটনা সম্পর্কে উল্লেখ করে যে, গত ২৯ নভেম্বর ২০২১ তারিখে ১৯৩০ ঘটিকায় বাস চাপায় নিহত মাঈনউদ্দিন এর ভগ্নিপতি সাদ্দাম ও তার বন্ধুর সাথে ঘাতক বাসের (অনাবিল সুপার) ড্রাইভার ও চালকের বাসে উঠা নিয়ে বাগবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। ফলশ্রুতিতে সাদ্দাম ও তার বন্ধু অন্য একটি বাসযোগে গাজীপুর হতে রামপুরায় রওনা দেয়। পথিমধ্যে সাদ্দাম ও তার বন্ধু রামপুরা এলাকায় তাদের নিকট আত্মীয়, সহচার্য ও বন্ধু-বান্ধবদের বাসটিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য জড়ো হতে বলে। এরই ধারাবাহিকতায় বাস চাপায় নিহত মাঈনউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন বর্ণিত স্থানে জড়ো হয়। বিষয়টি বিভিন্ন মারফতে গ্রেফতারকৃতরা জেনে যায়। ফলশ্রুতিতে তারা সুযোগের অপব্যবহার করার লক্ষ্যে সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যসহ নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করে।

​গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত মনির বর্ণিত নাশকতা সংগঠনের জন্য গ্রেফতারকৃত আলাউদ্দিন, গ্রেফতারকৃত নাঈমসহ আর ৪/৫ জনকে নির্দেশনা প্রদান করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত আলাউদ্দিন ও হৃদয়সহ আরো ৩/৪ জনকে বোতলে ভর্তি অকটেন সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গ্রেফতারকৃত নাঈম অগ্নিসংযোগকারী দল, সন্ত্রাসী ও হামলাকারী দল গুলোর সাথে সমন্বয় সাধন করে। ঘটনার সংগঠনে চক্রের বিস্বস্ত ১৫/২০ জনকে অগ্নিসংযোগ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। গ্রেফতারকৃতরা সুপরিকল্পিতভাবে গাজীপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামপুরায় ঘটতে যাওয়া সম্ভাব্য ঘটনাকে ব্যবহার করে নাশকতার এহেন পরিকল্পনা করে। মূলত এই চক্রটি চলমান শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হাফ ভাড়া’ ইস্যু অপব্যবহারের উদ্দেশ্যে নাশকতার জন্য প্রস্তুত ছিল।

​গ্রেফতারকৃতরা পরিকল্পনা অনুযায়ী রামপুরায় বিটিভি ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। ইতিমধ্যে তারা সাদ্দামের গাজীপুর হতে রামপুরায় পৌছানোর বিষয়টি জানতে পারে। ইতিমধ্যে কৌশলে তারা উক্ত বাসের নাম জেনে নেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে উক্ত নাশকতাকারীর সহযোগীরা অবস্থান নিয়ে বাসটি আগমনের আগাম তথ্য প্রদান করে। উক্ত বাসটি রামপুরার বিটিভি ভবনের সামনের এলাকা অতিক্রমকালে তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। ফলশ্রুতিতে অনাবিল সুপার বাসের ড্রাইভার ও হেলপার সম্ভাব্য হামলা আচ করতে পেরে বেপরোয়া গতিতে রামপুরা ত্যাগ করতে উদ্যোগী হয়। বাসটি ৪০০/৫০০ মিটার অতিক্রম করার পর সাদ্দাম ও তার শ্যালক উক্ত বাসটি পলাশবাগে থামাতে চেষ্টা করে। একপর্যায়ের সাদ্দামের শ্যালক মাঈনউদ্দিন বাসে জোরপূর্বক আরোহন করতে গেলে বাসের হেলপার তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। উক্ত গাড়ীর চাকায় পিষ্ট হয়ে মাঈনউদ্দিন মৃত্যুবরণ করে। তখন সুযোগ সন্ধানীরা শিক্ষার্থী নিহত বলে প্রচারণা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে উত্তেজনা ছড়ায়। একই সাথে তারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তায় চলমান বাস/যানবাহনে অকটেন ঢেলে অগ্নিসংযোগ ঘটায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তড়িৎ কর্মতৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এখানে উল্লেখ্য বাস চাপায় নিহতের ঘটনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কয়েকটি উদ্দেশ্য প্রনোদিত অপপ্রচার গোয়েন্দাদের নজরে আসে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেফতারকৃতরা স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অন্যান্য সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। গ্রেফতারকৃত সংঘবদ্ধ নাশকতা দলের অন্যতম হোতা মনির এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্যসহ নাশকতার ৭টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। সে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের একজন এজেন্ট। সে রামপুরার বাসে অগ্নিসংযোগ ঘটনার অন্যতম সংগঠক ও পরিকল্পনাকারী। তার নির্দেশনায় গ্রেফতারকৃতরা রামপুরায় নশকতা সৃষ্টিতে নানাবিধ দায়িত্ব পালন এবং স^শরীরে অংশগ্রহণ করে নাশকতা পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও অগ্নিসংযোগ ঘটায়। গ্রেফতারকৃত আলাউদ্দিন তার নিজ গ্যারেজসহ আরো কয়েকটি স্থানে বোতল ভর্তি অকটেন মজুদ রাখে ও সরবরাহ করে। গ্রেফতারকৃত হৃদয় স্বশরীরে বাসে অগ্নিসংযোগ করে। গ্রেফতারকৃত নাঈম বিভিন্ন গ্রুপ গুলোর ভিতরে সমন্বয় করে।

রাষ্ট্রবিরোধী এই ষড়যন্ত্রকারীদের যোগসাজসে রামপুরাস্থ সিন্ডিকেটটি সুযোগ সন্ধানী অপতৎপরতা চালিয়ে ধ্বংসাত্ত্বক ও জানমালের ক্ষতিসাধন, নাশকতা বিশৃঙ্খলা ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরীর উদ্যোগ নেয়। রাষ্ট্রবিরোধী যে কোন ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতা রুখে দিতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে র‌্যাব ফোর্সেস।​গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com