দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ বুলেটিন২৪ | ৪ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:১৭ মিনিট
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে প্রাথমিক ভোট গণনায় এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। তবে ভোট গণনা চলমান থাকায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়ে গণনা করা ভোটের ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ পেয়েছিলেন এল-সায়েদ। অন্যদিকে মাইক রজার্সের ভোট ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে আরও ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে দুই প্রার্থীর ব্যবধান কমে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোর পর্যন্ত এল-সায়েদ সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।
স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় ছিল প্রচারের মূল বিষয়
নির্বাচনী প্রচারে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন এল-সায়েদ।
মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সায়েদ অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাঁর প্রার্থিতা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকেও নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
২৮ অক্টোবর মিশিগানের ওয়াইয়ানডটে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে ফেডারেল মেডিকেইড কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দ কমানোর সমালোচনা করেন তিনি।
এল-সায়েদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিকে এল-সায়েদের মুসলিম পরিচয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তাঁর অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।
এল-সায়েদ এসব বিতর্কের জবাবে ভোটারদের দৈনন্দিন সমস্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, একজন প্রার্থীর নাম বা ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার বাস্তব সমস্যাই নির্বাচনের মূল আলোচ্য হওয়া উচিত।
এদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিসা স্লটকিনও নির্বাচনী প্রচারে তাঁর সঙ্গে অংশ নেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ফলাফলের দিকে নজর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে
মিশিগানের এই সিনেট আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায়।
ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলই আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে বা নিতে জোরালো প্রচার চালিয়েছে।
ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগে কোনো প্রার্থীকে নিশ্চিত বিজয়ী বলা যাচ্ছে না। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।
Leave a Reply