বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
লং মার্চ স্থগিতে জামায়াতকে শেহবাজের অনুরোধ আশুলিয়ায় কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৭ রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে জাভেদ নামে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডি ১০ নম্বর রোডের আবেশ হোটেলের পেছনের ব্রিজসংলগ্ন লেক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানিতে ভাসতে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করে লেকের কিনারায় নিয়ে আসা হয়। মৃত ব্যক্তির পকেটে থাকা পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে এসে তার স্ত্রী মরদেহ শনাক্ত করেন। জাভেদের বাড়ি রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায়। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ন্যাম ভবনে এমপির স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে উড়ছে বার্সা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের খলিলুর রহমান বাসে আগুন-ককটেল বিস্ফোরণে উত্তপ্ত রাজধানী রাজধানীর চার এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১ ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে পাভেল বাদ? মেট্রোরেলের ৩ প্রকল্প ও ইলেকট্রিক ট্রেনসহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন
“আমাদের জন্য এ এক বিরাট লজ্জা এবং কস্টের – ড. ইনামুল হক “

“আমাদের জন্য এ এক বিরাট লজ্জা এবং কস্টের – ড. ইনামুল হক “

আজ ১৫ অগাস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী। আমাদের আজকের অতিথি অভিনেতা, নির্দেশক, মঞ্চের জন্য নিবেদিত প্রাণ, একজন সংগঠক অনেক গুনে গুণান্বিত মানুষ আমাদের সবার প্রিয় মানুষ ড. ইনামুল হক স্যার।

শান্ত: স্যার কেমন আছেন?
ড. ইনামুল হক: ভালো আছি শারিরীক ভাবে সুস্থ আছি।

শান্ত: স্যার আজ ১৫ অগাস্ট বাঙালির জীবনে এক কালো অধ্যায়। যে মানুষটি বাংলাদেশের স্থপতি সেই মানুষ টিকে আমরা সপরিবারে নৃশংস ভাবে হত্যা করলাম।

ড. ইনামুল হক : তুমি ঠিকই বলেছো। আমাদের জন্য এ এক বিরাট লজ্জা এবং কস্টের । যে মানুষটি বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি মানচিত্র উপহার দিল সেই মানুষটিকেই আমরা পুরো পরিবারের সদস্যসহ হত্যা করলাম। এবং ৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশ তুমি যদি দেখ যে আমাদের আশে পাশের অনেক মানুষ তাদের চরিত্র আদর্শ পরিবর্তন করে রাতারাতি বিপুল বিত্তশালী হয়ে উঠলো। তারা সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশটির কথা না ভেবে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির কথাই বেশি ভাবলো। কেউ কেউ যে এর ব্যতিক্রম ছিলনা এমন নয় তবে তাদের সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে জাতির জনকের উত্তর সুরী দুই কন্যা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ওনার ছোট বোন সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন এবং সেই কারনে এখনো আশায় বুক বাঁধি। একবার চোখ বন্ধ করে চিন্তা করে দেখ যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দায়িত্ব না নিতেন তা হলে দেশ কোথায় যেত। কি অবস্থা হতো। একটি অকার্যকর রাস্ট্র হিসেবে এতদিন পরিনত হতো। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন এবং আদর্শ বুকে ধারণ করে দৃঢ় চিত্তে তিলে তিলে দেশকে আবার গড়ে তুলছেন।

শান্ত: স্যার আপনি কি বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পেয়েছিলেন?

ড.ইনামুল হক: হ্যা। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে আমি ওনার মত মানুষের সান্নিধ্য লাভ করেছিলাম। তার আদর্শের গড়া সংগঠন করেছি আমরা তখন। তিনি কোন কিছু জোর করে আমাদের উপর চাপিয়ে দেননি আমরা বিচার বিবেচনা করে উনার কথা আমরা অনুধাবন করেছি। তোমাদের প্রজন্ম দুর্ভাগা যে এমন মহান নেতা কে তোমরা পাওনি। উনি সেই সময় স্বপ্ন দেখতেন বাংলাদেশ সুইজারল্যান্ডের মত হবে। সৌন্দর্যে, মানবিকতায়, সাম্যবাদে। তখন সুইজারল্যান্ড সারা পৃথিবীতে এক আদর্শ রাস্ট্র হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি সব সময় স্বপ্ন দেখতেন বাংলাদেশ একটি অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হবে সবাই সমান অধিকার পাবে। যদি তিনি বেঁচে থাকতেন তবে অবশ্যই তার সোনার বাংলা তিনি গড়ে তুলতেন।

শান্ত : স্যার সত্যি আমরা দুর্ভাগা প্রজন্ম যে আমরা বঙ্গবন্ধুর মত নেতাকে পাইনি। কিন্তু ৭৫ পরবর্তীতে আমরা যে ভুল ইতিহাস জেনে বড় হয়ে উঠলাম তার দায়ভার কি তৎকালীন সরকার তথা যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা কাজ করেছেন তাদের উপর অনেকটাই বর্তায় কি না?
ড. ইনামুল হক : অবশ্যই সেই দায় ভার আমাদের প্রজন্মের যে তোমাদের আমরা সঠিক ইতিহাস জানাতে পারিনি। তার বিভিন্ন কারন ছিল আমাদের মাঝে অনেকেই বিভিন্ন ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে। তারা বিভিন্ন লোভ লালসার জন্য পথ ভ্রষ্ট হয়েছে। যারা তখন গুরুত্বপূর্ন পদে ছিলেন তারা ও বিভিন্ন কারনে তখন চুপ ছিলেন। এ নিয়ে আমার লেখা বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত নাটক “সন্ধিক্ষণে দাড়িয়ে ” দেখলেই বুঝতে পারবে। এটি বই আকারে ও বের হয়েছে পড়লেই বুঝতে পারবে। আমি চার পাশের অবস্থা দেখলে মাঝে মাঝে হতাশ হলেও বিশ্বাস করি তোমাদের প্রজন্মই আবার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবে হয়ত একটু সময় লাগবে কারন দীর্ঘদিন ভুল জেনে যে প্রজন্ম বড় হয়ে উঠেছে তার শেকড় সমাজের অনেক গভীরে প্রোথিত হয়েছে সেই যায়গা থেকে বের হয়ে আসতে একটু সময় লাগবে।

শান্ত: স্যার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মঞ্চ, টেলিভিশন, সিনেমা, গানে সেই পরিমান কাজ কি হয়েছে? যা দেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সঠিক ভাবে ধারণ করতে পারবে?

ড. ইনামুল হক: ৭৫ পরবর্তী একটা বিশাল সময় গিয়েছে যখন মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি, সাম্রদায়িক শক্তি ক্ষমতাসীন ছিল সেই কারনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সঠিক ইতিহাস নির্ভর কাজ কম হয়েছে তবে এখন হচ্ছে। সামনে আরও হবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই কাজগুলো সর্ব সাধারনের কাছে পৌছে দেয়া। তোমাদের প্রজন্মের কাজই হলো এইকাজ গুলো সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে জাভেদ নামে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডি ১০ নম্বর রোডের আবেশ হোটেলের পেছনের ব্রিজসংলগ্ন লেক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানিতে ভাসতে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করে লেকের কিনারায় নিয়ে আসা হয়। মৃত ব্যক্তির পকেটে থাকা পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে এসে তার স্ত্রী মরদেহ শনাক্ত করেন। জাভেদের বাড়ি রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায়। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।



©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com