1. tanvirinternational2727@gmail.com : NewsDesk :
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন

“পরিশ্রম, সততা জীবনের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি” – মুসা কামাল মাহমুদ

  • সময় : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২০
  • ৮০৪

শান্ত : প্রথমেই স্বাগত জানাচ্ছি বাংলাদেশ বুলেটিন ২৪.কম এ। আপনি বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য বহুজাতিক কোম্পানি Sony rangs এ উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন। কেমন আছেন আপনি?

মুসা কামাল মাহমুদ : আলহামদুলিল্লাহ,জী
আমি টিভিএস অটো বাংলাদেশ এবং Sony Rangs এর উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছি।আমি এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ রয়েছি। এর আগে আমার কর্ম জীবন শুরু হয়েছিল লিমো ইলক্ট্রনিক্স এ তাদের ব্র্যান্ড ছিলো নিপ্পন।

শান্ত : দীর্ঘ ৩০ বছর আপনি একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে আছেন এখানে প্রতিনিয়ত কি কি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন?

মুসা কামাল মাহমুদ : দেখুন প্রতিটি সেক্টরেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে তবে কর্পোরেটে এই চ্যালেঞ্জ খানিকটা বেশি এখানে প্রতি মিনিটে আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, আপনার কম্পিটিটরস আপনার থেকে ভোক্তাকে ভালো কি কি সার্ভিস দিচ্ছে বা দিতে পারে সেটা আপনাকে সব সময় মাথায় রাখতে হচ্ছে এবং সবথেকে বড় বিষয় হচ্ছে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়।

শান্ত : বাংলাদেশে বেশকয়েক বছর যাবৎ অনলাইন ভিত্তিক বিজনেস শুরু হলেও এখন এই সময়ে করোনা ভাইরাস এর ইস্যু তে অনেক বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানিও সেলিং এর জন্য অনলাইন প্লাটফর্ম কে বেছে নিয়েছে। এই বিষয়টাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

মুসা কামাল মাহমুদ : দেখুন আমি সনি-র‌্যাংগস এর কথাই যদি বলি, এই প্রতিষ্ঠানটি একটি বিশাল বড় প্রতিষ্ঠান এখানে কাজ করে অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। তাই আমাদের অনেক কিছুই বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, আমাদের স্টাফদের বেতন, ভাতা সহ প্রতি মাসে অনেক খরচ সুতরাং আমরা সবার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অনলাইনে আমাদের পণ্যের বিক্রির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আশার কথা হচ্ছে আমরা খুবই ভালো রেসপন্স পাচ্ছি। কারন অনলাইনে এর আগে যারা বিভিন্নধরনের পন্য বিক্রয় করতেন তাদের অনেকের পণ্যের মান নিয়ে কাস্টমার অনেক সময় দ্বিধা দ্বন্দে থাকতেন কিন্তু সনি-র‌্যাংগস বা অন্য ব্র্যান্ড যারা, কোয়ালিটিতে বিশ্বাস করে তারা যখন অনলাইন প্লাটফর্মে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলো তখন কিন্তু মানুষ আস্থার যায়গাটা ফিরে পেল।

শান্ত : করোনার কারনে এমনিতেই ম্যাক্সিমাম অফিসেই অনেকে চাকুরী হারিয়েছেন, এখন এই অনলাইন প্লাটফর্মের কারনে চাকুরীজীবিরা কি আরও সংকটের মধ্যে পড়ে গেলো কিনা?

মুসা কামাল মাহমুদ : বিষয়টি একটু অন্য দৃষ্টি কোন থেকে দেখলে, আমাদের দেশে বাস্তবিক অর্থে চাকুরী সংকট তো রয়েছে। প্রতিবছর ছাত্র ছাত্রীর বিরাট একটি অংশ সরকারী এবং বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়ালেখা শেষ করে চাকরির চেষ্টা করছেন কিন্তু সেই পরিমান কর্মখালি তো আমাদের নাই। আর এখন এই সংকট বিশেষ করে বেসরকারি খাতে একটু বেশিই পড়বে এটি সত্যি।

শান্ত : আপনার দীর্ঘ চাকুরীর সফল জীবন কিন্তু এই সফলতা পাওয়া কি খুব সহজ ছিল?

মুসা কামাল মাহমুদ : মোটেই না। আমি চট্টগ্রামের মানুষ। জন্ম বেড়ে ওঠা, পড়ালেখা সব ওখানে, সেই জায়গা থেকে ঢাকায় এসে খুব সহজে নিজের একটা অবস্থান তৈরী করা মোটেই সহজ সাধ্য ছিলনা। এর পেছনে প্রচন্ড পরিশ্রম, কাজের প্রতি সততা এবং আমি সময়ের কাজটি সময়ে করতে পছন্দ করি সবসময়। আমি মনে করি আমার জীবনের যতটুকু অর্জন তার পেছনে সব চেয়ে বড় কারণ হলো সময়ানুবর্তিতা। এছাড়া আমার জীবনে আমার মায়ের দোয়া এবং আমার স্ত্রীর অনুপ্রেরণা আমার সাফল্যের মূল কারণ।

শান্ত : আপনার অন্য একটি পরিচয় আছে, আপনি গীতিকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

মুসা কামাল মাহমুদ : আমি স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকেই বাংলায় খুব ভালো ছিলাম। তখন আজকের মত MCQ পদ্ধতি ছিলনা সবলিখতে হতো বর্ণনামূলকভাবে, তাছাড়া দেয়াল পত্রিকা বের করতাম বুঝতেই পারছেন আমার লেখার অভ্যাসটি অনেক আগে থেকেই ছিল। এর পরে যখন আমি ঢাকা আসি তখন প্রথমদিকে আমি গান প্রযোজনার কথা ভাবি এবং সেই সূত্রে আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে শিল্পী বেলাল খানের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং বেলাল খানের সুরে প্রথম গান তৈরি হয়। তখন আমি ভেতরে ভেতরে নিজে গান লেখার তাগিদ অনুভব করলাম। সেই থেকে শুরু হলো, এখনো লিখে যাচ্ছি। আমার গানের সংখ্যা একশো এর মতো হয়েছে।

শান্ত : আপনার প্রজন্মের পরে আরও দুটি প্রজন্ম চলে এসেছে, আপনাদের সময় এবং এখনকার সময়ের গানের বাণীর মাঝে কি পরিবর্তন লক্ষ্য করেন?

মুসা কামাল মাহমুদ : আমাদের সময়ে বেশির ভাগ গানের বাণীর গভীরতা অনেক বেশি ছিল এখন একটু কম। সবাই আমরা খুব তাড়াহুড়ো করছি, দ্রুত সফলতা লাভ করতে চাই কিন্তু যে কোন শিল্প মাধ্যম ই সাধনার বিষয়। আস্তে আস্তে এখানে উন্নতি করতে হয়, কিন্তু আজকাল লাইক কমেন্টের উপর শিল্পের মান নির্ভর করছে যা কিনা শিল্প এবং শিল্পী কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়।

শান্ত : চলচ্চিত্র একটি বিশাল বড় মাধ্যম এখানে গান লেখার ইচ্ছে আছে?

মুসা কামাল মাহমুদ : দেখুন চলচ্চিত্র একটি টিম ওয়ার্ক, এখানে আমি চাইলেই লেখা সম্ভব নয়। এখানে ছবির প্রযোজক, পরিচালক,সঙ্গীত পরিচালক, শিল্পী সবার সমন্বিত একটি সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। যদি কখনও ভালো কোন ছবির জন্য লেখার সুযোগ আসে তাহলে অবশ্যই করব।

শান্ত : ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

মুসা কামাল মাহমুদ : আমি চাকুরী থকে অব্যাহতি নেয়ার পরে হয়ত ব্যবসা করব পাশাপাশি আমার একটি বিশাল বন্ধু সার্কেল তৈরী হয়েছে তাদের সাথে খুব ভালো কিছু সময় কাটাতে চাই আর গান লেখায় নিমগ্ন থাকতে চাই।

শান্ত : এবারে পারিবারিক জীবন সম্পর্কে একটু জানতে চাই

মুসা কামাল মাহমুদ : আমি ব্যক্তিগত জীবনে সুখী একজন মানুষ । আমার স্ত্রী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন থেকে পড়ালেখা শেষ করে কিছুদিন শিক্ষকতা করেছেন কিন্তু আমার বড় সন্তান (কন্যা) জন্ম নেবার পরে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন আর চাকরি করেননি। আমার বড় সন্তান (কন্যা) কানাডা থেকে পড়ালেখা শেষ করেছে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ, এখন সে কানাডাতেই চাকরি করছে। বড় ছেলে অস্ট্রেলিয়াতে পড়ালেখা করেছে এখন চাকরি করছে, ছোট ছেলে ও লেভেল শেষ করেছে এখন কানাডাতে এ লেভেল করতে চাচ্ছে। সবাই ওদের জন্য দোয়া করবেন।

শান্ত : সবশেষে এই প্রজন্মের তরুণদের প্রতি কি উপদেশ থাকবে?

মুসা কামাল মাহমুদ : আসলে উপদেশ দিয়ে লাভ হয়না। যদি বলেন আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শেয়ার করতে পারি।একটি কথাই – যে কোন ক্ষেত্রেই সততার কোন বিকল্প নেই। তাই জীবনে উন্নতি করতে চাইলে কর্মক্ষেত্রে পরিশ্রম এবং সততা এই দুটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

শান্ত : বাংলাদেশ বুলেটিন ২৪. কম কে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

মুসা কামাল মাহমুদ : আপনাদের তথা বাংলাদেশ বুলেটিন২৪ এর সামনের চলার পথ সুন্দর হোক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
©বাংলাদেশবুলেটিন২৪