নিজস্ব সংবাদদাতা –
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া রাজশাহীর একটি হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত ২৪তম আসামি হিসেবে নাম থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ রেলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন নাজিব কায়সার নামে এক রেল কর্মকর্তা। মামলার নথি পর্যালোচনায় এই তথ্য পাওয়া গেছে ।
মামলা স্বারক নম্বর ৭৫৭০(৪)১, তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫। সংশ্লিষ্ট মামলার এজাহারে নাজিব কায়সারকে হত্যাচেষ্টা মামলার ২৪ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে । ছাত্র–জনতার আন্দোলন পরবর্তী সময়ে সারাদেশে একাধিক মামলা হলেও, এই মামলার একজন আসামি এখনো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করায় প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, নাজিব কায়সার ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং রুয়েট শাখার সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নানা ছিল রহনপুর-গোমস্তাপুর আসনের সাবেক আওয়ামীলীগ এর সাংসদ। অভিযোগ রয়েছে, এসব পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি চাকরিজীবনে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন পান।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ রেলের পশ্চিমাঞ্চলের ডিইএন-২ (পশ্চিম) পদে দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে একাধারে এইএন-রাজশাহী, ডিইএন-লালমনিরহাট এবং ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার-পাকশির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
ঠিকাদার ও রেল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, নাজিব কায়সার দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারদের মধ্যে ‘১০ শতাংশ’ নামে পরিচিত ছিলেন। রেল প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের নাম ব্যবহার করে কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান প্রকৌশলী (পশ্চিম) এর নাম ভাঙিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এছাড়া রাজশাহী নগরের পদ্মা আবাসিক এলাকায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করছেন তিনি—যা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে আলোচনা চলছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, নাজিব কায়সার বর্তমানে শ্বশুরের চিকিৎসার অজুহাতে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে অবস্থানরত পতিত সরকারের পলাতক কিছু নেতার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও সংগঠনের কাজেও তিনি যুক্ত। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, মামলার নথিতে আসামি হয়েও একজন রেল কর্মকর্তা কীভাবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন—এই প্রশ্ন ঘুরছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সচেতন মহলের মতে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অভিযোগ ও মামলার বিষয়গুলো দ্রুত তদন্ত করে স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
হত্যাচেষ্টা মামলার নথিতে নাম থাকা সত্ত্বেও নাজিব কায়সারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও তদন্ত সংস্থাগুলোর অবস্থান কী—তা জানতে অপেক্ষা করছে দেশবাসী।